অনির্বাণ…
প্রায় বহুকাল পার হয়ে গেলো তোমাকে লিখছি না!
মনে হলো যেনো শতাব্দী পেরিয়ে গেলো- তোমাকে জানান দেয়া হয়নি, আমার হৃদয়ের শুভ্রতম প্রেমের কথন!
আচ্ছা –
তুমি কি অপেক্ষায় থাকো এখনো?
নাকি তোমার অপেক্ষার রঙ পালটেছে আজকাল?
হয়তো পাল্টেছে, কিংবা পাল্টে গেছে অপেক্ষার মানুষও,
এমনটা হওয়া তো স্বাভাবিক, আমাদের যোগাযোগ নেই তাওতো প্রায় বছর চারেক হলো!
এতদিনেও কোনো নতুন মানুষ জোটেনি তোমার? এ আমি জন্মেও বিশ্বাস করিনা!
অনির্বাণ…
আজকাল বড্ড মন খারাপ হয় মাঝে মধ্যে! কেনো হয় বুঝতে পারিনা,
বোধহয় – মন খারাপের কারণটা জানি,কিন্তু আমার ওসব ভাবতে ইচ্ছে করে না, ভাবলে ভীষণ যন্ত্রণা হয়, কষ্টের ওজন বাড়ে, তাই উপেক্ষা করে যাই!
জানো? কখনো সখনো ইচ্ছে হয়,তোমারে একবার ডাকি,
ঠিক যেমনটা আগে ডাকতাম, মেঘলা দিনে মন খারাপ হলে তোমাকে এনে বসিয়ে রাখতাম দীর্ঘক্ষন!
তোমার মনে পড়ে? একবার আমার ভীষণ মন খারাপ হয়েছিলো,
উচ্চ মাধ্যমিকে রেজাল্ট খারাপ করায়, নিবারণ মাস্টার খুব করে বকেছিলেন,
আর আমি সারাদিন চুপচাপ মন খারাপ করে বসে ছিলাম!
সেদিন তুমিও কিন্তু কম যাওনি, লুকিয়ে নিবারণ মাস্টার এর সাইকেলের টায়ার পাংচার করে দিয়েছিলে রাগে!
কি ভীষণ পাগলামিতে সময়গুলো কেটেছে আমাদের, তাইনা বলো?
অনির্বাণ…
এখনোও কি তুমি অমন ভাবে পাগলামো করো কারোর জন্য?
কাউকে ভালোবাসো অমন ভয়ংকর সুন্দর ভাবে?
আমার না বড্ড জানতে ইচ্ছে করে!
খুব অভিযোগ নিয়ে তোমার সামনে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে- ভিক্ষে করে চেয়ে নেই তোমাকে আমার জন্য!
জানো? জীবন বড্ড ছোট- এই কথা তো চিরন্তন সত্য!
জীবনটা একদিন ফুরিয়ে যাবে তেল বিহীন প্রদীপের মতোন,
এই কথা সবাই জানে, এমনকি – তুমিও তো জানতে,
সেই সাথে এও তো জানতে যে আমি তোমায় ঠিক কতখানি চাই, জানতে না বলো?
তবুও তুমি আমায় ভালোবাসলে না, এত ছোট্ট একটা জীবনে এতটা বড় দুঃখ নিয়ে আমার পার করতে হবে জীবন?
বোধহয় – তোমার ভালোবাসার অপরাধে যোগ্য শাস্তি আমার প্রাপ্যই ছিলো…
ইতি
অপর্ণা




অনির্বাণ…
অপর্ণা বলছি