এখন যে কথাগুলো আমি লিখব
তা বাতিল শব্দগুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিতে
পারেন যে কেউ। বলতেই পারেন– “ক্লিশে”।
কিন্তু এসব একান্তই তীব্রতর মানবিক আবেগ।
বুকের বামদিকে যে জৈবিক যন্ত্রাংশটি
ক্রমাগত টিক টিক করে জীবনস্পন্দন আর
প্রবহমান সময়ের ধ্বণী বইছে–
অনেকে একে তারই ক্ষরণ বলে অভিহিত করেন।
যে তীব্র অন্তর্লীন উত্তাপে পুড়ছি অনুক্ষণ;
যে ধূসর আবেগের মেঘে ডুবে আছি;
যে অমোঘ দংশনে নীল হয়ে থাকি–
এ তারই এক বেদনার্ত উপাখ্যান।
এই শব্দগুচ্ছে মেধার কোন সংযোগ নেই;
বস্তুত মেধার সাথে যোজন দূরত্বে আমার অবস্থান।
অহর্নিশ অন্তর্গত ক্ষরণে বিক্ষত হতে হতে
মাঝে মাঝে কিছু অনিবার্য চিৎকার সমগ্র
অন্তরাত্মা চিরে বেরিয়ে আসতে চায়।
আমার কলম কখনোই সেই যন্ত্রণার
প্রকৃত তীব্রতা ধারণ করতে পারেনি।
অনুভবের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বলয়ে যারা অনায়াস পরিক্রমন
করতে জানেন, শব্দ-উপমার সুনিপুণ শিল্পকলায়
যারা দক্ষ চিত্রকর; আমি নিতান্ত অবুঝের
মতই তাদের প্রতি ঈর্ষা লালন করি।
বস্তুত কারো প্রতি আমার কোন ক্ষোভ নেই।
যে সুস্পষ্ট বিভাজনরেখাসমুহে মানুষ বিভক্ত,
তাকে আমি প্রকৃতির নেপথ্য নিয়ম বলেই মানি।
মেধার মত আমার সাহসের ঘাটতিও অতি প্রবল।
এই ইদুঁরদৌড়ের মঞ্চে আমি চিরকেলে পেছনসারীর।
তবু যে অব্যক্ত হা-হুতাশ অহর্নিশ আমাকে
বিদ্ধ করে, পোড়ায়– তারই কিছু খণ্ডিত চিত্ররূপ দেবার
ব্যর্থ প্রয়াসে এই যে কলম বাগিয়ে আসি
এ ধৃষ্টতা ক্ষমা করবেন বন্ধুগণ। আমি কবি নই
এই শব্দবন্ধও কবিতা নয়।




সুন্দর!
ধন্যবাদ! আপনার মতামত আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান।
সুন্দর