“আজকে কি অফিসে কিছু আছে? এতো সুন্দর করে সাজিয়েছে কেনো? না, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও তো না। কোনো সরকারি দিবসও তো না। তাহলে এতো সাজসজ্জা কিসের জন্য?”___(আফিয়া)
“আমি তো তোর সাথেই এসেছি। তুই না জানলে আমি কিভাবে জানবো? দেখ কাউকে জিজ্ঞেস করে”____(স্নিগ্ধা)
“এই আজকে কিরে অফিসে? সাজানো কেনো হলো? তুই কি কিছু জানিস ইলা?”____(আফিয়া)
“কেনো! তোরা জানিস না? বসের ভাই ‘মাহিদ হোসেন দিপ্ত’ আমাদের অফিসে জয়েন করেছেন সাংবাদিক হিসেবে। তাকে স্বাগতম জানাতে আজকের এই আয়োজন। শুনেছি দেখতে নাক অনেক হ্যান্ডসাম।”____(ইলা)
” তোর তো যারে দেখিস তাঁরেই হ্যান্ডসাম লাগে। কিন্তু কথা হচ্ছে বসের ভাই কেনো সাংবাদিক হিসেবে জয়েন করবেন? যার নিজেরই এতো বড় সংবাদপত্রের অফিস আছে।”____(স্নিগ্ধা)
“তার নাকি রহস্য উন্মোচন করতে ভালো লাগে তাই। সে আমাদের মধ্য থেকে একজনকে তার সহকারী হিসেবে বেছে নিবেন। যে তার সাথে কাজ করবে। ইশ! যদি আমাকে নেয় তো কত ভালো হয়।”____(ইলা)
“তুই না বসের সাথে লাইন মারিস? তা এখন আবার তার ভাইয়ের দিকেও নজর দিচ্ছিস। এক মনে কয়জনকে জায়গা দিবি আর?”____(আফিয়া)
“এখন বস তো আমাকে ঘাসও দেয় না। তাই দেখি যদি তার ভাইকে পটাতে পারি।” ___(ইলা)
“ঐ ঘাসের চিন্তা বাদ দিয়ে যদি একটু নিজের কাজে মন দিতি তাহলে বস ঘাস না দিলেও অন্তত খুশি হতেন। আর এখন ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে একটু কাজে মনোযোগ দে। চল স্নিগ্ধা ক্যান্টিনে যাই।’______(আফিয়া)
সবাই হলরুমে বসে বসের আসার অপেক্ষায় আছে। প্রায় দশ মিনিট পর বস (আইদ হোসেন) আর তার সাথে আরো কয়েকজন রুমে প্রবেশ করেন।
“প্রিয় সহকর্মী বৃন্দ, আজকে আপনাদের এখানে ডাকার কারণ নিশ্চই আপনারা ইতিমধ্যে জেনে গেছেন। আজকে আমাদের সাথে উপস্থিত আছেন বিখ্যাত তরুণ রাজনীতিবিদ আদিব চৌধুরী আর তার পি.এ. সিয়াম হোসেন।”____(আইদ হোসেন)
“বড়লোক বাপের বিগরানো ওঁলাদ…!”____( স্নিগ্ধা)
“মি. রাতকানা! এরা এখানেও এসেছে? কালকে জ্বালিয়ে শান্তি পায় নি যে আজকেও এখানে এসেছে?”____(আফিয়া)
“আজকে তো ওর ব্যবস্থা করবোই। কালকে তোর জন্য কিছু বলতে পারি নি। আজকে তো মজা দেখাবোই।____(স্নিগ্ধা)
“থাক, মাফ করে দে। আর উনি আমাদের অতিথি। ওনার সাথে এমন করা ঠিক হবে না। অফিসের সম্মানের ব্যপার।”____(আফিয়া)
“তুই সবসময় কোনো না কোনো বাহানা দেখিয়ে আমাকে থামিয়ে দিস।”____(স্নিগ্ধা)
“বাদ দে। এখন চুপচাপ অনুষ্ঠান দেখ।”____(আফিয়া)
“আমার অনেক রাগ উঠতেছে। সামনে পেয়েও ওরে কিছু বলতে পারছি না।”____(স্নিগ্ধা)
“রাগ কি আমার কম হচ্ছে? ঐ রাতকানাটারে দিনকানা বানাইতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু বস এসব জানলে তো আমাদের উগান্ডা পাঠিয়ে দিবেন।”____(আফিয়া)
“ওরে শাস্তি দিয়ে যদি আমাকে উগান্ডাও যেতে হয় আমি তাতেও রাজি আছি। কিন্তু প্রতিশোধ না নেয়া অবধি আমি শান্ত হতে পারছি না।”____(স্নিগ্ধা)
“না। আমি উগান্ডা যেতে চাই না। ওখানকার ছেলেরা কালো হয়। আমার ছেলে মেয়েরাও কলো হবে। না বাবা তা হতে দেয়া যাবে না। তুই কি চাস তোর একমাত্র বান্ধবীর সন্তানরা কলো হোক?”____(আফিয়া)
” আফিয়া আর স্নিগ্ধা আফা। স্যার তার কেবিনে আপনাদের দুজনকে ডাকে।”____(কর্মচারী)
“আচ্ছা। স্যারকে বলেন আমরা আসতেছি।”___(স্নিগ্ধা)
“দেখছিস। ঐ রাতকানা আর তার দিনকানা বস নিশ্চই আমাদের বসের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে নালিশ দিছে। আমার সুন্দর ছেলে বিয়ে করার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। আচ্ছা, ওখানের ছেলেরা কালো হলেও কি মায়াবী হওয়ার সম্ভাবনা আছে? শুনেছি কালো ছেলেরা নাকি মায়াবী হয়।”____(আফিয়া)
“তুই একটু চুপ করবি? এসব বাজে বকা না থামালে আমি নিজেই তোকে উগান্ডা পাঠাবো। আর শুধু পাঠাবোই না সবথেকে বাজে দেখতে কারো সাথে বিয়ে দিয়ে দিব। এখন চল আমার সাথে। দেখি কেনো ডেকেছেন বস।”___(স্নিগ্ধা)
চেয়ারে হ্যালান দিয়ে দেয়ালের দিকে মুখ করে বসে আছে আদিব। সিয়াম তার পাশের চেয়ারে বসে ফোন ঘাটছে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে মাহিদ। সে আকাশে পাখিদের খুনসুটি দেখতে ব্যস্ত। আর আইদ নিজের টেবিলে বসে অফিসের ফাইল দেখছে।
লেখক : মায়েদা জাহান মৌ
ই-মেইল : mayedajahanm@gmail.com



