সৃষ্টির আদিতে যখন ছিলো আলো,
পৃথিবী পেলো প্রাণের পালক,
শুরু হলো বেঁচে থাকার লড়াই,
তবে পুরুষই হলো ব্যবহারের ফাঁদ।
শক্তি দিলো, সাহস দিলো,
দায়িত্ব দিলো তারই কাঁধে,
সংসার গড়ার স্বপ্ন দিলো,
তবু ভালোবাসা দিলো না।
শৈশবে শেখালো কাঁদতে নেই,
কষ্ট গিলে নিতে হয় চুপচাপ,
যন্ত্রের মতো চলতে হবে,
নয়তো সমাজ দেবে অভিশাপ।
বাড়ির বড় সন্তান বলে—
স্বপ্ন ভুলে দায়িত্ব নাও,
মায়ের চিকিৎসা, বোনের বিয়ে,
সব দায় শুধু তারই কপালে।
যুদ্ধের ময়দানে প্রথম সে যায়,
বুলেটের সামনে বুক পেতে রয়,
শহীদ হলে পতাকা পায়,
কিন্তু অশ্রু কেউ রাখে না তার জন্যে।
ভালোবাসার নামে শর্তের খেলা,
“প্রমাণ করো, দাও, দেখাও!”
যে কাঁধে ভর দিয়ে বাঁচতে শেখে,
তার কষ্টের কথা কেউ কি জানে?
আবেগ দেখালে “দুর্বল” বলে,
শক্ত হলে “নির্দয়” বলে,
কেউ বোঝে না তারও ব্যথা আছে,
তারো মন কাঁদে একাকী শেষ প্রহরে।
সে পিতা হয়, স্বামী হয়,
ভাই হয়, বন্ধু হয়,
সবাই চায় তার থেকে কিছু,
কিন্তু সে কবে নিজের মতো রয়?
বৃদ্ধ হলে উপেক্ষার ভার,
“তুমি বোঝো না নতুন যুগ,”
যে মানুষটি পথ দেখিয়েছিলো,
সেই আজ অবহেলার ভোগ।
হয়তো একদিন এই পৃথিবীতে,
একটি ভালোবাসাময় দিন আসবে,
যেখানে পুরুষ কেবল ব্যবহার না,
বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসাও পাবে।




চমৎকার
সুন্দর