কেবলমাত্র মায়ের কোল ছাড়া- কিইবা আছে এই দরিদ্র মহাদেশে?
ভরসা করার মতোন হাত কিংবা নিরাপদে জীবন পার করার মতোন কোন মানুষ?
যত্ন আছে এখানে কিংবা প্রেম? কিচ্ছু নেই…
মহিবও নেই এখানে!
তাকালেই মায়া খুঁজে পাওয়া যায়,বোধহয় এমন কোনো চোখও নেই এই মহাদেশে!
শেষবার মায়া দেখেছিলাম – মহিবের চোখে তাকিয়ে ;
আমার জন্য তার কী ভীষণ করুনা?
সত্যি বলতে– অমনটা আর কোথাও পাইনি!
সেই থেকে মহিবকে ভালোবাসি আমি! কেবল ভালোবাসি বললে ভুল হবে-
আসলে মহিবের জন্য আমার মায়া হয়!
মাঝেমধ্যে মহিবকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে হয়- তখন আবার শ্বাসকষ্ট বাড়ে!
মহিবের দর্শন আমার কাছে ইনহেলারের মতোন!
অথচ – মহিবকে পাওয়া হয় না…
এই যে মহিবের জন্য আমার কষ্ট হয়, বেলায় কিংবা অবেলায় তাকে পেতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে তারে দু- দন্ড আমার দুঃখের পাশে বসিয়ে নাটোরের বনলতার মতোন শান্তি কুড়াতে!
এমন কি আমার সমস্ত অসুখের কথা মহিবকে জানিয়ে টুকটাক স্বান্তনা পাওয়ার লোভ জাগে;
মুলত, এই কথা এখন সকলেই জানে!
আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী, অফিসের কলিগ এমনকি আমার পোষা বেড়ালটা অবধি জানে,মহিবকে ঠিক আমি কতখানি চাই!
কেবল আমার এই চাওয়ার কথাটা মহিব জানে না!
ওর জানার কথাও নয়, এই যে রোজ আমি মহিবকে ডাকি,
অগোচরে ওর লগে কথা কই,
ওরে নিয়ে সাদামাটা একটা সংসার সাজাই, সেখানে ভাতঘুমের দুপুরে দোরের কাছে একটা বাদামী বেড়াল লাফিয়ে চলে যায় ঘরের বাইরে,
এই অনুভব একান্তই আমার নিজের- একজন সর্বজ্ঞাতা ছাড়া এই কথা আর কেউই জানে না!
এই যে,মহিবকে ভালোবেসে আমি নিঃসঙ্গতা বেছে পার করে যাই জীবন?
এই মহাদেশের আর কেউ জানে না এই খবর!
সেই যে একবার মায়া দেখেছিলেম ওই চোখে,তারপর অমন মায়া আর দেখিনি কোথাও…
সেই থেকেই আটকে গেছে চোখ, আটকে গেছে মায়া, আর পড়া হয়নি কারোর প্রেমে!
চিরন্তন সত্যের মতোন মনে হয় আজকাল- তাকালেই মায়া খুঁজে পাওয়া যায়, বোধহয় এমন কোনো চোখও নেই এই মহাদেশে!
কেবলমাত্র মায়ের কোল ছাড়া- কিইবা আছে এই দরিদ্র মহাদেশে?



