যতক্ষণ অব্যক্ত ছিল
তোর সাথে ভালবাসা ছিল- খুব মনোটোনে।
হলুদ কামিজে তুই রাধিকা
আর আমি বাঁশীহীন অদৃশ্য সুরের দ্যোতনা নিয়ে কৃষ্ণ।
যতক্ষণ অব্যক্ত ছিল–
মন কেমন কেমন নিয়ে তোর কাছে ছুটে যাওয়া।
আর তুই এলানো চুলে বসে থাকতি
খুব উদাসী।
একবার কাছে পেলেই কি দুদ্দার ছুটে
আসতি, সংগীদের মিছেমিছি বুঝিয়ে।
যতক্ষণ অব্যক্ত ছিল, এইসব অনুভূতি
কি তীব্র ভাসিয়ে নিত। এলামেলো ভাবনায়;
শীর্ষেন্দুর বই নিয়ে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে;
চায়ের চুমুকের মাঝখানে চকিত উড়ানে;
চার চোখের নিমগ্ন তৃষ্ণায়;
বুশ, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা আমেরিকার খতরনাক
আচরণ নিয়ে অর্থহীন তর্কযুদ্ধে;
খামোখাই রাজনীতির উত্তপ্ত মন্থনে।
তুই আমি কেউ কি রাজনীতি ছাইপাশ বুঝি কিছু?
অথচ না জেনেও ঠিকই বুঝতাম;
না শুনেও ঠিকই জানতাম;
তোর বুকের মধ্যে এক্ষুণি আবহসংগীতের মত
একটা ড্রামবিট বেজে যাচ্ছে খুব অনায়াস—
আমারও যে।
দল বেঁধে বেড়াতে গেলে না তাকিয়েও বোঝা যেত
ঠিক পাশ ঘেঁষে যে হাঁটছে সে তুই। তোর
মোবাইল ছিলনা বলে ভয়ে ভয়ে
ল্যান্ডফোনে সাংকেতিক কল।
তুই ঠিকই জানতি, আগে থেকে বলা ছিল না
তবু জানতি, তোর বাবা রিসিভার তুলতেই যে কলটি
কেটে গেল, সে…
তুই জিজ্ঞেস করলেই তুমুল অস্বীকার.. তবু জানতি।
ও সময়ে যে তোর একটু দেরীর সুযোগে..
যতক্ষণ অব্যক্ত ছিল এইসব অনুভূতি কি তীব্র
বুকের ভেতরে খুব, বুকের খুউব ভেতরে
যতক্ষণ অব্যক্ত ছিল, তারপর…
ঈর্ষা, সন্দেহ, উৎকণ্ঠা- ভালবাসা নয়;
অন্ধ শরীরি তৃষ্ণা- ভালবাসা নয়;
বিরক্তি, ঝগড়া, বিচ্ছেদ- ভালবাসা নয়।
কোন একপক্ষে এরপর শুধু স্মৃতি রোমন্থন।
এরপর শুধু ছায়া হাতড়ানো।
একজনের সাথে বুঝি একবারই ভালবাসা হয়।



