“কি খুঁজে পেলেন আপনারা?”____(মাহিদ)
“নতুন করে তো কিছু পাইনি। তবে হ্যা একজন বৃদ্ধ কালকে রাত আনুমানিক ১২টা কি ১টা হবে তখন দুজন লোককে গাড়ি থেকে নেমে জমিদার বাড়ির দিকে যেতে দেখেছে।”_____(স্নিগ্ধা)
“অদ্ভুত! যেখানে লোক দিনের বেলাতেও যেতে ভয় পায় সেখানে কি না মধ্য রাতে মানুষ যায়। আচ্ছা, ঐ লোকগুলো দেখতে কেমন ছিল তা কি কিছু বলেছে?”_____(মাহিদ)
“না। সে তাদের চেহারা তো দেখে নি। কিন্তু হ্যা সে বলেছে অল্প বয়সি হবে তারা। দামি পোশাক পড়া ছিল। আর গাড়িটাও অনেক দামি হবে। অনেক বড়লোক হবে।”____(স্নিগ্ধা)
“তার মানে আপনার ধারণাই ঠিক স্নিগ্ধা। ভুতের ভয় দেখিয়ে কেউ তাদের কার্য সিদ্ধি করছে। কালকে একবার আমরা যাব। দেখবো এই ভুতদের কারা এরা।”____(মাহিদ)
“লাভ হবে না। এত বছর ধরে স্নিগ্ধা কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু আমরা কিছুই পাইনি।”_____(আফিয়া)
“এত বছর আপনারা দিনের বেলাতে গিয়েছেন। তাই বলেই তো বাবাজিকা ঠুল্লু পেয়েছেন। আমরা কালকে রাতে যাব। কিন্তু এখন একবার গিয়ে দেখতে চাই আমি। চলেন আমার সাথে।”_____(মাহিদ)
____________
আদিবের মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে আব্রাহাম চৌধুরী চোখের পানি ফেলছিলো।
“সুফিয়া। আজ কত বছর হয়ে গেল তোমারা নেই। খুব মনে পড়ে তোমাদের। ঘরটা কেমন শূন্য হয়ে আছে। তোমাদের যাওয়ার পর থেকে আদিব কেমন একটা হয়ে গেছে। তোমাদের যাওয়ার জন্য ও নিজেকে দায়ি করে। ও যা করছে তা ঠিক নয়। অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু আমার কথা শুনে নি। বেশি চাপ দিতেও পারি না। ডাক্তার নিষেধ করেছেন। একমাত্র ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে ওর এই পাগলামো মেনে নিতে হচ্ছে। ভুল জেনেও চুপ থাকতে হচ্ছে। কি করব বলো? আমি কি করবো? কি করলে আমাদের বড় ছেলে স্বাভাবিক হবে?”_____(আব্রাহাম চৌধুরী)
“যতদিন ও নিজের করা ভুলের প্রাশ্চিত্ত না করছে।”____(আবির)
“আদিব…..!”______(আব্রাহাম চৌধুরী)
“আমি আদিব না আবির। আবির চৌধুরী। আপনার ছোট ছেলে। অবশ্য আপনি তো কবেই আমাদের মন থেকে মুছে দিয়েছেন। কিন্তু আমার বড় ভাই পারেনি। আর আমি পারতে দিব না। আমি যেমন সব হারিয়েছি ওকেও হারাতে হবে। হারানোর ব্যাথা ওকেও বুঝতে হবে।”____(আবির)
“তোর রাগ আমার উপর, তোর নিজের উপর আমাদের শাস্তি দে তুই। কিন্তু স্নিগ্ধা? ও কি করেছে? ওকে কেন এসবের মধ্যে জড়ালি? ও তো তোর বোন।”____(আব্রাহাম চৌধুরী)
“আপনার বড় ছেলের ভালবাসা সে। আর তাকে জড়াবো না। তা কি হয় বলুন? স্নিগ্ধাকে ওর কাছ থেকে দূরে রেখে ওকে আপন মানুষের বিচ্ছেদবেদনার তিক্ত বিস্বাদ বোঝাব। তবে ভয় নেই ওর কোনো ক্ষতি করব না। বোন ও আমার অনেক ভালোবাসি ওকে। ওর আবি কখনো ওকে কষ্ট দিতে পারে না।”____(আবির)
“এমন করিস না বাবা। এতগুলো জীবনকে এভাবে শেষ করিস না। সব শেষ করে সবাই একসাথে শান্তিতে বাঁচি। এসব শেষ কর।”____(আব্রাহাম চৌধুরী)
আবির তার কোনো কথার উত্তর না দিয়ে তার মায়ের ছবির সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
“সব এলোমেলো হয়ে গেছে মা। কেনো এমন হলো। আমাদের সুখের পরিবারে কার নজর লেগেছিল? তবে তুমি চিন্তা করো না। আসল অপরাধীকে আমি শাস্তি দিব মা।”______(আবির)
“তুই যখন জানিস অপরাধী অন্য কেউ তবে নিজেকে শাস্তি কেনো দিচ্ছিস?”____(আব্রাহাম চৌধুরী)
“আমার ভাগের শাস্তিটুকু তো পেতেই হবে বাবা।”___(আবির)
মায়েদা জাহান মৌ



