নিজের কাছেই বড় অপ্রিয়- কাটাই সময়।
কিছুতে ভিজি না শুধু পুড়ে যাই দ্বিধার প্রহরে।
পুড়ে যাই আত্মমগ্ন- পুড়ে যাই প্রতিশ্রুতিময়
উচ্চারণের তোড়ে, পুড়ে যাই তপ্ত নগরে–
অহর্নিশ বেদনার বিষণ্ণ খরায়।
বিমূঢ় সন্ধ্যা এলে ভাঙা ঘাটে পানশি ভেড়ায়–
কে এক অচেনা মাঝি, হাতে তার আকালের চিঠি।
কিছুটা ভেজায় এসে মাঝে মাঝে তীব্রতর ঝড়;
কিছুটা রাঙায় কোন চেনা রঙে শান্ত তুলিটি;
ক্যানভাস ভেজে না তাও। তার সবটুকু পরিসর-
চারকোলে মেখে দেয় কোন এক নিয়তির হাত।
একে একে সুতো ছিঁড়ে উড়ে যায় সবকটা ঘুড়ি;
বহুদূরে ঝর্ণাধারা; অবিরাম বিষণ্ণ প্রপাত;
পানশালা জমে গেলে শব্দ মাপে নির্বিকার শুড়ি।
তোমার চোখের কোণে যতটুকু দ্বিধাহীন শোক-
এখনো পোড়ায় বুক, নিবিড়– অমোঘ।
উপেক্ষার বীজতলা ভরে আছে তীব্র কোন তাপে–
নতুন ফসল নয়, উড়ে আসে দাবানল দাহ;
মুখ তুলে ডুবে গেছে বুঝি কোন সময়ের ধাপে–
জলের প্রশান্তি মাখা নদীটির শীতল প্রবাহ।
পুড়ে যাই ভুল সুরে, পুড়ে যাই প্রবঞ্চনায়;
পুড়ে যাই উপেক্ষায়, পুড়ে যাই তীব্র তীব্রতায়;
পুড়ে যাই তুমিও যে দগ্ধ হও দেখে- একই তাপে।
পুড়ে যাই ‘জন্মেছি’- এই এক আজন্ম পাপে।



