কিছু দৃশ্যের দিকে তাকালে,চোখ ফেরাতে ইচ্ছে হয় না!
যেমন তোমার চলে যাওয়ার দৃশ্য, যে কোনো সুখের দৃশ্যের চাইতে সুন্দর লাগে!
আমি অপলক চিত্তে অনুভব করি সেই সুন্দরতম দৃশ্যের মুখ!
তারপরে আর আমার চোখে কিছুই পড়েনা,আমি দেখতে পাইনা-
ঘরের পিছনে মাথাভাঙা একটা মেহগনি গাছ,তার ওপর ক্ষুদার্ত হয়ে ডাকতে থাকে একটা কাক,
পুকুরের পানিতে হাত রাখা যায় না ঠান্ডায়, শ্যাওলা জমে সবুজ হয়ে গেছে তার বর্ণ!
দেখতে পাইনা, উঠোনকোনের শিউলি গাছে নতুন কোনো কলি এসেছে কি না,
ক টা ফুল ঝরে পড়েছে মাটিতে, কতটা পাপড়ি তুলে মালা গেঁথেছে পাশের বাড়ির চারু!
মোড়ের মাথায় হাট বসেছে, একটা কুকুর কিসের উদ্দেশ্য যেনো দৌড়ে বেড়াচ্ছে,
পাশের বাড়ির কাকিমা, কার নামে যেনো কান পড়া দিয়ে যাচ্ছে এসে,
বেড়ালটা দু- দিন ধরে অনাহারে,
এসব কিছুই চোখে পড়েনা আমার, আমি কেবল দেখি, তুমি চলে যাচ্ছ-
তুমি চলে যাচ্ছ এই শহর ছেড়ে, এই ঘর ছেড়ে, তার চেয়েও বড় কথা,তুমি চলে যাচ্ছ এই আমাকে ছেড়ে!
অথচ – তোমার চলে যাওয়ার পথ দিয়ে, কয়েকটা সিগারেট হাতে হেঁটে চলে গিয়েছিলো একজন ব্যর্থ হওয়া প্রেমিক,
সদ্য জন্মানো শিশুটার মায়ের মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছিলো খাটিয়ায়,
বিয়ের আসর ছেড়ে প্রেমিকের হাত ধরে ওই পথ দিয়েই পালিয়েছিলো শ্যামল কাকার মেয়ে পারুল!
সেসব কিছুই দেখা হয়নি আমার, আমি কেবল দেখছিলাম,
তুমি চলে যাচ্ছ শেষবারের মতোন,
পিছন ফিরে তাকাও নি আর, কেবল হেঁটেই যাচ্ছ সামনে,
যেনো এই শহর, এই ঘর, তাড়া করেছে তোমায়,তুমি পালাচ্ছ, শুধুই পালাচ্ছ,
আর আমি- তোমার ওই চলে যাওয়ার দৃশ্যটাই চোখে একেঁ কাটিয়ে দিবো সবকটা বসন্তের দিন!



