গুরু গড়ে ধর্মের বেদী, তবে কেন ভাঙে পথ?
মানুষ ভেঙে ভাগ করে দিলো, কোথায় সেই মধুর রথ?
ভক্তি ছিলো এক স্রোতে, এখন কেন দ্বিধার রেষ?
গুরু ভেদের বাণী শুনে বিভক্তিতে আজ গগন শেষ।
প্রেম যেখানে ছিলো অখণ্ড, সেখানে বসলো দেয়াল,
কোনো এক ব্যাখ্যার ভিন্নতায় জন্ম নিলো নতুন পাল।
পুড়ে গেলো চিতার মতো ঐক্যের অমল দীপ,
গুরুদের কথায় বিভাজিত হল মানুষ, নিভে গেলো স্নেহ-সীপ।
গুরু দিলেন শিক্ষা একি? “সবাই এক প্রভুর সন্তান,”
তবু কেন ঘরের কোণে বাজে বিভেদের ঘন্টাধ্বনির গান?
নামের ভিন্নতায় আঁকা হলো বিশ্বাসের ভিন্ন পথ,
পবিত্র গ্রন্থের ভাষা শুনে কেন বাড়ে অন্তর্দ্বন্দ্বের রথ?
দেবালয়, মসজিদ, গির্জা, স্তূপ সবই তো একই সুর,
তবু কেন আজ আমরা ভিন্ন, কোথায় গেলো হৃদয় পুর?
ধর্মের ভ্রাতৃত্ব চিরকালীন, কোথা হারালো সেই প্রেরণা?
গুরু ভেদের কূটকথায় ভেঙে গেলো মানবতা, তৃষ্ণারত প্রজ্ঞান।
শ্রদ্ধার আসন ভুলে গিয়ে বিভেদের অন্ধ পানে,
মানুষ হেঁটে চলে অমর্যাদায়, ভুলে গেলো স্নেহের গানে।
গুরুজনের মূল বাণী তো ছিলো ঐক্যের আহ্বান,
তবু কেন মন আজ অন্ধকারে, বিভেদে হয় কলুষিত প্রাণ?
নদীর স্রোতে ভাসে সবার প্রাণ, একই রবি দেয় আলো,
তবু কেন ধর্মের নামে আমরা পরস্পরকে করি কালো?
একবার ভাবো, সবই যদি এক প্রভুর সৃষ্টি,
তবে কেন এই ভেদাভেদ, কেন জন্ম বিভক্তি?
মানুষ হও, মানুষই থাকো, ধর্ম তোমার পথের সাথি,
গুরুদের আসল বাণী হলো মঙ্গল, ভক্তি আর মতি।
ভুলে যাও ভেদের কাহিনী, ছুঁড়ে ফেলো দ্বিধার জাল,
এক হৃদয়ে বাঁধো সবাইকে, মুছে ফেলো সমস্ত কাল।
ধর্ম একটাই মানবতা, এই হলো শিক্ষার মূল,
গুরুদের আশীর্বাদে হোক সবাই এক, দূর হোক কালো মেঘের ঢুল।
প্রেম আর ভ্রাতৃত্বের আলোতে জ্বলে উঠুক নতুন দীপ,
গুরু ভেদের মেঘ পেরিয়ে জেগে উঠুক মানবের নীপ।




ঠিক
ধন্যবাদ! আপনার মতামত আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান।