“বাবা। আদিব চৌধুরী কেনো এসেছিল আমাদের বাসায়? আর ওনার চোখ মুখের এমন অবস্থাই বা কেনো ছিল? যেনো উনি খুব কান্না করেছেন। কে উনি? আমাদের পরিবারের সাথে কি সম্পর্ক ওনার? এর আগেও ওনার নাম শুনে তোমারা সবাই কেমন একটা অদ্ভুত ব্যবহার করেছিলে। আসলে উনি কে?”____(স্নিগ্ধা)
“কেউ না। এসব বিষয়ে তোমার ভাবতে হবে না। যাও ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নেও।”_____(সোহরাব হোসেন)
এই বলে সোহরাব হোসেন নিজের রুমে চলে যায়। স্নিগ্ধা তার মায়ের কাছে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে সেও রান্না ঘরের দিকে চলে যায়। স্নিগ্ধা বুঝতে পারে তির বাবা-মা তাকে কিছু বলবে না। এই রহস্য তাকে একজনই বলতে পারে। তার দাদি হালিমা বেগম।
____________
রাতের খাবার শেষে সবাই ঘুমাতে চলে যায়। স্নিগ্ধা তার দাদির কাছে যায়। হালিমা বেগম নিজের মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে চোখের পানি ফেলছিলেন। স্নিগ্ধার আসার শব্দে তিনি ছবিটাকে আবার তার শাড়ির ভাঁজে রেখে দেন।
“ওটা কি রাখলে দাদি? আর তোমার চোখে পানি কেনো? তুমি কি কাঁদছ?”_____(স্নিগ্ধা)
“ককককই? না তো। আমি কেনো কাঁদবো? তা তুই আমার রুমে? কিছু কি লাগবে?”_____(হালিমা বেগম)
“কেনো আসতে পারি না তোমার রুমে?”____(স্নিগ্ধা)
এই বলে স্নিগ্ধা তার দাদির কোলে মাথা রাখে। দাদি তার মাথায় হাত বুলাতে থাকে।
“কি হয়েছে আমার বোনটার? তার এমন মন খারাপ কেনো? কেউ কি কিছু বলছে?”______(হালিমা বেগম)
“আদিব চৌধুরী কে? কি সম্পর্ক তার এই পরিবারের সাথে? কেনো এসেছিল আমাদের বাসায় আর তার চোখে পানিও বা কেনো ছিল?”______(স্নিগ্ধা)
“তার চোখে পানি দেখে কি তোর খুব কষ্ট হচ্ছিল নাকি?”_____(হালিমা বেগম)
“না। আমার কেনো কষ্ট হবে? (একটু চুপ থেকে) আসলে কেনো জানি না তার চোখে পানি দেখে আমার খুব খারাপ লাগছিল। বুকের ভেতর দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল। কিন্তু এমন কেনো হলো? আমি তো তারে চিনিই মাত্র কয়েকদিন। আর তাছাড়া আমাদের সাথে ঝগড়া ছাড়া আর কোনো কথাই হয় নাই। তবে এমন অনূভুতির কারণ কি?”______(স্নিগ্ধা)
“হৃদয়ের টান। তোদের মধ্যে যে বন্ধন আছে সেই কারণে।”_____(হালিমা বেগম)
” কিসব বলছো? টান, বন্ধন। তোমার মাথা ঠিক আছে।”______(স্নিগ্ধা)
“এতদিন তোর বাবার জন্য তোকে কিছু বলতে পারি নি। তোর জীবনের বড় সত্যিটা তোকে বলতে পারি নি। আজকে বলবো।”______(হালিমা বেগম)
“কোন সত্যি? কিসের সত্যির কথা বলছো তুমি?”_____(স্নিগ্ধা)
“তুই তো জানিস তোর একটা ফুফু ছিল। তোর বাবার ছোট ছিল। ঘরের সবার বড়ো আদরের। বিশেষ করে তোর বাবার। নিজের আদরের বোনটাকে তাই সবথেকে প্রিয় বন্ধু আব্রাহাম চৌধুরীর সাথে বিয়ে দেয়। বছর খানেক পর তাদের কোল আলো করে আসে আদিব আর আবির। দুই যমজ ভাই। কি মিল তাদের! কতো ভালোবাসা তাদের মধ্যে। আদিব একটু ঠান্ডা ছিল আর আবির তেমনি চতুর। কয়েক বছর পর তাদের নয়নের মনি হয়ে তোর আগমন। কি ঝগড়াই না করতো ওরা তোকে নিয়ে! আর তুইও আদু দা আর আবু দাকে ছাড়া কিছু বুঝতি না (হালিমা বেগম বলছিলেন আর চোখের পানি ফেলছিলেন)।”_____(হালিমা বেগম)
“আদিব ভাইকে তো আমি দেখেছি। কিন্তু আবির ভাই কোথায়? আর ফুফু কোথায়? ওনারা কেনো আমাদের বাসায় আসেন না?”______( স্নিগ্ধা)
“বলছি সব। একদিন সুফিয়া তার ভাইয়ের কাছে তোকে চায় আদিবের বৌ হিসেবে। নিজের আদরের বোনকে আর না করতে পারে নি সোহরাব। আর তুই ওদের পরিবারে ভালো থাকবি তাই ভেবেও রাজি হয়ে যায়। সেদিন সবাই অনেক খুশি ছিলাম। কিন্তু পরের দিন আদিবের চাচা আফজাল আমাদের বাসায় এসে বলে রাতে নাকি সুফিয়া আর আব্রাহামের সঙ্গে অনেক ঝামেলা হয়। আব্রাহাম নাকি অনেক মারে সুফিয়াকে। তাই সুফিয়া আবিরের হাত ধরে চলে যায়। তারপর থেকে ওদের দুজনকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। আর তখন থেকে তোর বাবা আব্রাহামকে ঘৃনা করে। আর বেচারা আদিবকেও এ বাড়িতে আসতে দেয় না। তোর কাছে আসতে দেয় না। ওর ভাবনা ওর বাবার জন্য যেমন বোনকে হারিয়েছে। ওর জন্য না আবার তোকে হারিয়ে ফেলে।”______(হালিমা বেগম)
ঐদিন রাতে স্নিগ্ধা দাদির রুমেই সোয়। কিন্তু রাতে তার ঘুম হয় না। সারারাত দাদির বলা কথাগুলো তাকে ভাবায়।




Nice🌹
খুব সুন্দর হয়েছে। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
শুভকামনা
[5823]gbjee login করুন এবং সেরা অনলাইন slots গেম খেলুন,gbjee app download করে আজই লাইভ casino খেলার নিয়ম জানুন। বিকাশ দিয়ে অনলাইন casino একাউন্টে ডিপোজিট করে আপনার প্রিয় গেম শুরু করুন। visit: gbjee