আজ রবিবার, শুনলাম প্রিয় প্রাক্তন এর আজ বিয়ে। হঠাৎ করেই বুকটা ধুকধুক করে কেঁপে উঠলো।কেন জানি নাহ হঠাৎ এতটা খারাপ লাগছে। চিলেকোঠার ঘরে বদ্ধ থাকা দক্ষিনা জানালাটা খুলে দিলাম, এরপর হৃদয়ের সাথে একমাত্র জুরে থাকা নিকোটিনটা ধরালাম…!
আজ না আকাশে চন্দ্র নেই, মিটিমিটি জ্বলে থাকা তারাগুলো আজ মেঘের আড়ালে ঢেকে পড়েছে।তবে উওর -দক্ষিনে ইশান কোনে একটি শুকতারা জ্বলে থাকতে দেখছি।একের পর একটা নিকোটিন ধরাচ্ছি আর ধোঁয়াগুলো প্রকৃতিকে বিলাচ্ছি!!
একে একে চার- চারটা ধরালাম, প্রাক্তনকে আজ ভীষণ মনে পড়ছে।এতটা ঠিক কবে মনে পড়ছে ঠিক বুজে উঠতে পারছি নাহ।নিজেকে মাত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেছি,এরই মধ্যে শুনলাম তোমার বিয়ে। তাই নিজেকে আজ সামলাতে পারলাম না।বড্ড ভালো বেসেছি যে তোমায়।তোমার অক্ষিপটের মায়ায় যে পড়বে সে তা জানে তাকে ভুলে যাওয়া কঠিন।বড্ড কস্ট’গো ভালোবাসায়…!
তোমায় ভালো না বাসলে বুজতাম নাহ ভালোবাসা কি জিনিস।তোমার প্রস্থানের ভালোবাসাটা কে ভীষণ ভাবে উপলব্ধি করছি।আজ তুমি আমার নেই, হারিয়ে’ছো আরো বহু আগে।
তোমার সাথে আমার যোগাযোগ নেই বছর দুয়েক। বিচ্ছেদ এর পরিমাণ টাও তার ও অধিক হয়তো, আড়াই বছর। তাও তো ছোট্ট ছোট্ট এক একটা বেলা নিমিষেই তেপান্তর হলো বুজি উঠতে তা পরি নি।।
আজ তোমায় খুব ভিষন মনে পড়ছে কেনো জানো?
তোমার সাথে আমার জুড়ে থাকা শ্রেষ্ঠ সময়গুলো নিয়ে কাটানো মূহুর্ত গুলো কি সহজে ভোলা যায় বলোতো?কিছুইতে তে ভুলতে পারি নাহ। সম্পর্কের দীর্ঘ বয়সটা ও যে কম ছিলো নাহ।প্রায় একটা বছর মোহ মায়ায় আটকে থাকার পড় তোমায় পেয়েছিলাম।বয়সে ও তুমি যে আমার সিনিয়র ছিলে।তাইতো তোমায় আমার মোহ মায়ায় আটকাতে বেশ বেগ পেতেই হয়েছিল।
এরপর তোমাকে আমার করে।পেলাম আমার এই জীবনে ঠুনকো জীবনে।তোমার সাথে কতো কথা, কতো গান কত মিস্টি মধুর স্মৃতি, তোমার সাথে ছুটে চলা এই পথে কতো পথে প্রান্তরে,আজ সব ধূলো জমে আছে।ধূলো জমে আছে জমে থাকা চিরকুটের স্তুপের ভীরে…!
এসব সব জানে আমাদের চলার পথে সাক্ষি এই আকাশ এই বাতাস, আর আকাশে উড়ে বেড়ানো গাঙচিল। আমি তোমাকে কৃষ্ণচূড়া রঙে রাঙাতে চেয়েছিলাম কিন্তু তাও আর পেড়ে উঠে নি।
কারন তুমি নেই…!!
তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে আরো বহু আগে। তুমি হয়তো ভুলে গেলেও আমি বোধহয় আমি তোমায় ভুলতে পারি নি।তাই তোমার সাথে চলার প্রতিটা প্রতিস্থাপন বেশ মনে পড়ে।
একটা সময় আমরা এমন ভাবে প্রেমে পড়ি যেনো কাউকে একদিন না দেখে থাকতে পারিতাম নাহ।তোমার অক্ষিপটের মুগ্ধতা,লম্বা ছিলকী চুলে বেলী ফুলের সুবাস আমাকে তোমার কাছে টেনে আনতো।আমিও তোমার খোঁপায় বেলি বেধে দিতাম।
আচ্ছা প্রিয় তুমি বলেছিলে সেদিন বেলি ফুলের মালাটা ডাইরিতে রেখে দিবে।আদৌও কি তার চিন্হ আছে? ডাইরিটা আছে তো?
নাকি সেটার যায়গা হয়েছে বাদাম ওয়ালা ঝালমুড়ির প্যাকেটের দোকানে?
আচ্ছা প্রিয় তোমাকে সবচেয়ে বেশি কেনো ভালো লাগতো জানো?
যখন অন্যকোন মেয়ের সাথে কথা বলতাম।তোমার তখন কি নাহ রাগ হতো,রাগে ফেটে যেতে তুৃমি।এরপর তুমি গিয়ে আমার ডান কাধে কত তোমার হাতের স্পর্শের কত মার খেয়েছি তার ঠিক নেই। কিন্তু অভিমান শেষে তোমার কান্নার হাসিটা আজও মনে পড়ে।।
তোমাকে ব্যার্থ প্রেমিক হিসাবে আমি আর কিছু দিতে পারি নি।হয়তো সেই বেলি ফুলের মালার সাথে একটা নীল রঙের শাড়ি।আর দেখা হলে পার্কের বেঞ্চিতে বসে দশ টাকার জাল মুড়ি কিংবা বাদাম।
বাদামের আস্তরন গুলো ফু দিয়ে তাও আমার গায়ে ফেলতে। সিনিয়র প্রিয়দর্শনী হওয়া সত্যেও তোমার আচারন ছিলো ষোড়শী কিশোরীর আহ্লাদীর মতন। তাই মায়ায় আটকে যেতাম।এই মায়জাল বড্ড খারাপ,সহজে বের হওয়া যায় নাহ।
কখনো আমাকে এতটা শাষন করতে আমি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকতাম। আবার কখনো বিরক্ত হতাম তবুও ভালোবাসি বলে সবটা মেনে নিয়ে পথ চলতাম অগোচরেই।
এভাবে চলতে লাগলো বেশ আরো কিছু দিন।তোমার কেয়রিং বেড়ে চললো আরো অনেকটা।এতটা কেয়ারিং ছেড়ে যাবে বলে করতে কিনা তাও জানি নাহ। তাই হয়তো-
কলেজ ক্যাম্পাসে দাড়িয়ে থাকা মানুষটার জন্য বাসা দিয়ে তৈরি করা খাবার নিয়ে আসতে,কখনো ব্যাগে চকলেট, সেভেনাপ, ইত্যাদি খাবার ভরে দিতে। মনে হচ্ছিলো আমি স্বর্গের এক মহাপুরুষ। এত ভালোবাসা বিলিয়ে দিচ্ছে আমার জন্য?
এভাবেই বেলা কেটে আরো অনেকটা এরপর-
হঠাৎ আমার পারিবারিক চাপ এবং পরাশুনার জন্য এই শহর ছেড়ে পাড়ি দিলাম ইট পাথরে ঘেরা কংক্রিটের শহরে।
ছোট্ট একটা জব নিলাম, ইচ্ছে ছিলো দু-জনে বাঁধিবো ঘর।কিন্তু প্রনয় আর হয়ে উঠলো নাহ।
এই চাকরিটা যে আমার জন্য কাল হবে তা বুজতে পরি নি।সময়ের ব্যাবধান,আর দূরত্বে আমাদের ভালোবাসার দূরত্ব বাড়াতে পারে তা তোমায় না দেখলে বুজাতাম নাহ।
দিন দিন সময়ের অযুহাত দিয়ে তোমার অবহেলা পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গেলো।আচ্ছা দূরে থাকলে কি মানুষের ভালোবাসা দ্বি’গুন বেড়ে যায় নাকি?কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তার বিপরীত কেন হলো ঠিক তা বুজতে পারলাম নাহ।হয়তো আমারই ভুল ছিলো তোমাকে পুরোটা বুজে উঠতে পারি নি।
কিন্তু তুমি না বলে বিচ্ছেদের অনল প্রবাহ কেন জ্বালালে?অন্ততো চলে যাবার কারনটা তো বলতে।
প্রাক্তন’রা সহজে চলে যাবার সঠিক কারন বলতে পারে নাহ।মিথ্যেটা অক্ষিপটে ভেষে উঠে…!!
তাই হয়তো-
তুমি আমার জীবনে ছিলে ফেরারী পাখির মতন
ফেরারী পাখিরা খুব সহজে ফেরে নাহ।ঠিক তুমিও তাই আর ফিরে আসো নি। আর প্রিয়,আমি ছিলাম পরিযায়ী পাখির মতন, জীবটাও তাই আজ এখানে কাল ওখানে। ঠিক পরিযায়ী পাখিরা যেভাবে থাকে। তাই তো আজ চিলেকোঠার ঘরে বসবাস।।
তাই আজ তোমাকে নিয়ে বড্ড ভাবছি আর এক-একটা নিকোটিন ধরাচ্ছি।
আচ্ছা প্রিয় আমার দেয়া শাড়িটা কি কখনো কি পড়ে ছিলে নাকি ন্যাপথেলিন দিয়ে আলমারিতে সাজিয়ে রেখেছো?
সব উওর আজ এক সাথে জানতে ইচ্ছে করছে কিন্তু তা আর সম্ভব নাহ।
সকল উওর ঘড়ির পেন্ডুলাম এর মতন ঝুলছে আর আমার প্রশ্নগুলো বোকা বাস্কেই পড়ে রইলো। অজানা কথাগুলো অজানা রইলো।অনুশোচনা নেই তবে বুকে কিছুটা অক্ষেপ পুষে রইলো!!
আজ তোমার বিয়ে, আজ যেখানে আমার কথা ছিলো সেখানে অন্য কেউ,মেনে নিতে কস্ট হলেও এটাই প্রকৃতির যে নিয়ম। জন্ম,মৃত্যু বিয়ে সবি উপর ওয়ালার হাতে। তাই আকাশে জুড়ে সেই ছোট্ট শুকতারার মতন
কল্পনায় আজ তোমাকে নিজের মত করে’ই সাজালাম!!
তোমাকে হয়তো আজ বড্ড সুন্দর লাগছে। লাল রঙের শাড়ি,খোপায় বেলিফুল,ভারী অর্নামেন্টস নিজেকে একদম নতুনত্বে সাজিয়ে ফেলোছো।তোমার চোখে আমাকে ভুলে থাকা তৃপ্ত হাসি।
আর আমার চোখে বয়ে চলা অতৃপ্ত এক না পাওয়া অনূভুতি। তুমি আমাকে হয়তো এভাবেই কস্ট পাওয়া জন্য আমাকে অভিশাপ দিয়েছিলে। তাই তো আমি পরিযায়ী পাখির মতন হয়ে আছি৷আজ এখানে কাল ওখানে হয়তো বাকিটা পথ এভাবেই কেটে যেবে নিস্তব্ধতায়।কখনো খোলা আকশের সোডিয়াম আলোর নিচে কখনো বা চিলেকোঠার বদ্ধ ঘরে।
আমি চাই তুমি সব সময় ভালো থাকো, শুখে থাকো সারাটাজীবন।তোমার প্রিয় মানুষট যেন তোমাকে বুজতে পারে।যদি কখনো ডানা ঝাপটিয়ে আসতে হয় আমার কাছে আসতে পারো।বন্ধুত্বে এক রাশ অভিরাশি তোমাকে দিয়ে দিবো।।
আমি তোমায় দিলাম একঝাঁক সহস্র অভিশাপ।
আমি তোমাকে দিলাম ভালো থাকার অভিশাপ।



