একুশ বসন্ত পার হওয়া এক মানবী বাইশে এসে হটাৎ তার ছেলেবেলা ফিরে পেতে চাইলো!
যুবতী মনে তখন কিশোরী হওয়ার এক তীব্র বাসনা!
কেবলমাত্র নিজের ছেলেবেলাটা ফিরে পেতে সে কতকিছুই না করলো;
কুড়িয়ে পাওয়া মাটির হাড়ি আর পাঠকাঠির ঘরে নতুন করে পাতলো চড়ুই ভাতির সংসার!
কি যে এক অজানা উন্মাদনায় ঘিরে রাখলো তারে!
বাইশ বসন্তে পা রাখা প্রাপ্তবয়স্কা এক নারী,
হুট করেই যেনো ফিরে গেলো বারো কিংবা তেরোয়!
মাথার চুলগুলো সর্বময় ওড়নার আড়ালে লুকিয়ে রাখা মানবী হুট করেই পরিনত হলো বেনীদোলানো কিশোরীতে!
সর্বদা ঘরকুনো মেয়েটা যেনো হুট করেই চলে গেলো উঠোন পেরিয়ে আরেক ঘর;
লোকলজ্জার বালাই ভুলে নিরব শান্ত থাকা মেয়েটা হটাৎ করেই যেনো হয়ে গেলো চঞ্চলা প্রজাপতি!
মায়ের শাসন মেনে চলা মেয়েটা হুট করেই মায়ের অবাধ্য হয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলো পাড়াময়!
কিছুদিন আগে বিধ্বস্ত ভাবে মন ভাঙার পরেও যে মেয়েটা নিরব ছিলো দীঘির শান্ত জলের মতোন!
সামান্য মাটির কলসি ভেঙে ফেলায় সেই মেয়েটাই তুমুল ঝগড়া শুরু করে দিলো পাশের বাড়ির চারুলতার সাথে!
সমাজের সব নিয়মে আবদ্ধ থাকা মেয়েটা হটাৎ অনিয়মে যাপন করতে থাকলো নিজেকে!
তারপর হটাৎ,
সবকিছু থামিয়ে সে শান্ত নদীর মতোন স্থীর হয়ে গেলো!
ভেঙে দিলো নিজ হাতে গড়া চড়ুইভাতির সংসার,পাটকাঠির ঘর,কলাপাতার ছাউনি,সব!
তাকে প্রশ্ন করা হলো,সে এমনটা কেনো করলো?
বাইশ বসন্তে পা রাখা সেই মানবী এক আকাশ আক্ষেপ নিয়ে জানান দিলো সকলকে,
সে আসলে তার ছেলেবেলাটা দু আঙুলে একবার স্পর্শ করতে চাইছিলো!
তাই জন্যই এতো আয়োজন!
অতপর পাল্টা প্রশ্ন,
ছেলেবেলা যখন ফিরে পেতে চাইলো,তবে আয়োজন করে আবার ভাঙতে হলো কেনো সব?
সেই প্রশ্নের আর উত্তর দেয়নি সে,
কেবল সুক্ষ্ম একটা দীর্ঘশাস ছুড়ে দিলো আকাশে!
আসলে,মেয়েটি বুঝে গিয়েছিলো,
তার ছেলেবেলা আটকে আছে ষোলোবছর আগের সেই পুবের বারান্দায়!
আসলেই, ছেলেবেলা একবার চলে গেলে পৃথিবীর সমস্ত আয়োজনে আমন্ত্রণ করলেও সে আর ফিরেনা!
ফিরেনা বাইশে – তেইশে কিংবা ষাট পেরিয়ে গেলেও দেখা মেলেনা তার!
ছেলেবেলা একবার হারিয়ে গেলে তারে ফিরে পাওন যায় না আর!



