সেন্ট্রি শামিমের ডিউটির টাইম শেষ হয়ে গেছে, তার এখন রেস্টের সময়। রেস্ট মানে ডিউটি ছেড়ে কম হলেও আট ঘন্টায় আর কোন কাজ নেই। রাতে আবার টহলে যেতে হবে। দুপুরে খাবার পর স্নান করে রেস্টের জন্যে শুয়ে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করেছিলো কিন্তু মেনাজ মণ্ডলের মুখখানা কিছুতে সরাতে পারে না। কেবলই তার বাবার মুখখানার সাথে মেনাজ মণ্ডলের ক্ষুধার্ত, কোটরাগত চোখ দু’টি শামীমের স্নায়ুকে ক্ষণে ক্ষণে পীড়া দেয়। সুতরাং আজ তার আর রেস্ট হচ্ছেনা। সে কিছুক্ষণ পরপর এসে মেনাজ মণ্ডলকে দেখে যাচ্ছে।
সেন্ট্রি পোস্টে নতুন যে সিপাহী দাঁড়িয়ে আছে সেও শামীমের বয়সী। তবে ভীষণ রুক্ষ আর ক্রুদ্ধ স্বভাবের। তার বাড়ি ঢাকায়, চাকরিতে সে শামীমের দু’ব্যাচ সিনিয়র। শামীম তার ভাগের খাবার একজন স্মাগলারকে খেতে দিয়েছে আবার ঘন ঘন দেখতেও আসছে বিষয়টি সেন্ট্রির কাছে রহস্যজনক মনে হয়। সে ঠাট্টা করে বলে-
কী ও শামীম, এই শালার বেডা শশুর লাগেনি যে বারবার দেখতে আহো?
নারে ভাই সকাল থাইক্কা বইস্সা আছেতো! তাই একটু দেইক্কা গেলাম।
প্রহরী কিছু বলেনা, তার ঠোঁটে রহস্যময় হাসি। তারপর মণ্ডলকে বলে-
কীরে শালার বেডা স্মাগলারের বাচ্চা, বাইতে ডাঙ্গর মাইয়া টাইয়া আছেনি? শামীম তো বিয়া শাদী করে করে নাই। বরিশাইল্যা পোয়া, জামাই হিসেবে খারাপ অইতো না।
মণ্ডল কোন কথা বলেনা। বোকা সরল টাইপের লোক কিন্তু এটুকু বুঝতে পারে, দু’জনই সাধারণ সৈনিক অথচ দু’জনের মানসিকতার মধ্যে কী বিস্তর ফারাক!
সহসাই কয়েক বছর আগের একটি ঘটনা মনে পড়ে যায় মণ্ডলের। তখন ভাদ্র মাসের শেষ। সীমান্তের নো মেন্স ল্যান্ড বরাবর মোকাব্বের মাস্টারের তাল গেছো ভিটেজুড়ে কাশফুলের জঙ্গল। মাঠজুড়ে আমন রোপায় সবুজের সমারোহ। সন্ধ্যা হলেই দিগন্তে হালকা কুয়াশার আবরণ প্রকৃতিকে অপরূপ মাধুর্যপূর্ণ করে তোলে। মাকাব্বের মাস্টারের ভিটের তাল গাছগুলো বাবুই পাখিতে ভর্তি। তারা সুনিপুন শৈল্পিক ঘর দড়জা বানিয়ে নিয়েছে ঝুলন্ত তাল পাতার সাথে। ক’দিন পরেই দিনাজপুর মালোপাড়ায় পুজার ধুম লেগে যাবে।
কান্তাজিউর মন্দির সাজবে নতুন সাজে। দূর-দূরান্ত থেকে আসবে হাজার হাজার হিন্দু পূন্যার্থী। সীমান্ত বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বর্ডার ক্রস করেও অাসবে বহু লোক।
শরতের সেইমতো এক সন্ধ্যেবেলার কথা। হারু মিয়া নামের একজন স্মাগলার এসে বললো-
ও মণ্ডল, চেয়ারম্যান তার আম বাগানে আমগো সবাইরে ডাকছে।
খবর শুনে সব স্মাগলাররা জড়ো হয় আম বাগানে। চেয়ারম্যান বলে-
পুজা উপলক্ষে শাড়ির চালান আসছে, সবাই রাত দশটার পরে মোকাব্বের মাস্টারের ছন ভিটায় জমা হবে।
সিদ্ধান্ত হয়, দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে দু’ট্রাক মাল খালাস করতে হবে। ছমিরদ্দি, মেনাজ মণ্ডলসহ পাঁচ জনে ট্রাক থেকে মালের গাট্টিগুলো খালাস করবে আর অন্যরা সবাই তা মাথায় করে মাস্টারের কাশবন হয়ে ডানে মোড় নিয়ে চেয়ারম্যানের চাতালে তা স্তুপ করবে। সেখান থেকে ট্রাক লোড হয়ে চলে যাবে ঢাকায়।
ফাঁড়ির সাথে ডিল পাঁকা পোক্তই করেছিলো করম চেয়ারম্যান কিন্তু কে জানতো ব্যাটেলিয়ন থেকে হঠাৎ এসে সেকেন্ড ইন কমান্ড মেজর সাহেব এ সময়ে রেড করবেন! ব্যস ধরা পড়ে যায় মেনাজ মণ্ডলসহ তিনজন স্মাগলার।
এ ঘটনায় সদরে ক্লোজ করে নেয়া হয় ফাঁড়ির দায়িত্বরত টহল দলকে। টহল দলের বিরুদ্ধে চোরাচালানীর অপরাধ এনে চার্জ গঠন করা হয়। ব্যাটেলিয়নের সাধারণ সৈনিকদের মধ্যে চরম ভীতিকর অবস্থা। টহল দলের চাকরি থাকবেনা। টহল দলের সিপাহীদের ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার গার্ডে আটক রাখা হয়। তাদের শাস্তি চলছে।
দু’টি ট্রাক ভর্তি শাড়ি, লুঙ্গি, কাশ্মিরী চাদর, শীতের নানান পোশাক সিজ করা হয়েছে। ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড খুবই সৎ অফিসার। করম আলী চেয়ারম্যান তদবির করবে কী, ভয়ে সে নিজেই আত্মগোপনে। যদিও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের হাতে কখনও কোন প্রমাণ থাকেনা। মেনাজ মন্ডল বসে বসে ঝিমুচ্ছে। সে বুঝে ফেলেছে এ যাত্রা তার আর রক্ষে নেই।
ব্যাটেলিন কমান্ডারের নির্দেশে ক্যাপ্টেন পদবীর একজন অফিসারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল স্মাগলারদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
তিনজন স্মাগলারকেই ভাদ্রের এই তালপাকা রৌদ্রের মধ্যে বসিয়ে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের টিম বসেছে ব্যাটেলিয়ন প্যারেড গ্রাউন্ড আর কোয়ার্টার গার্ডের মাঝখানে একটি গোল ঘরে। এক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাকি দু’জনকে তপ্ত বালুর মাঝে রৌদ্রে চিৎ করে রাখা হচ্ছে।
চলছে মেনাজ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের পালা। ধৃত তিন জনের মধ্যে মেনাজ মণ্ডল বয়স্ক মানুষ। বাকি দু’জন একেবারেই নবীন। জিজ্ঞাসা করছেন সেই ক্যাপ্টেন। ক্যাপ্টেন সাহেবের মুখখানা মণ্ডলের আজও স্পস্ট মনে আছে। জিজ্ঞেস করেছিলো-
নাম কী?
মেনাজ মণ্ডল।
মনেতো হয় ভালো বংশের লোক। তা বাড়িতে কে কে আছে?
জ্বে ছেলে আর ছেলের মা।
ছেলের বয়স কত? সেও কী স্মাগলারী করে?
জ্বেনা স্যার। সে ছোড, কেলাশ ফাইভে পড়ে। মোকাব্বের মাস্টারের স্কুলে। এবার বৃত্তি পরীক্ষা দিবে স্যার।
এতো বছর পর শামীমকে দেখে মন্ডল মনে মনে ভাবে শামীমের মুখের গড়নটা সেই অফিসারের মতোই। সেই অফিসার বড়ই দয়ালু ছিলেন।
ছেলের লেখাপড়ার কথা শুনে ক্যাপ্টেন সাবের খুব দয়া হয়েছিলো। বলেছিলেন-
যে অপরাধ করেছো, জেল তো নিশ্চিত। কী হবে এখন?
কান্না জড়িত কণ্ঠে মেনাজ বলেছিলো-
আমার কেউ নেই স্যার। জেলে গেলে ছাওয়ালের আর পড়াশোনা হাবিনা। আমারে ক্ষমা করি দেন জীবনে আর এমন কাম করবো না স্যার।
ক্যাপ্টেন সাব বললেন-
ছেলেকে ডেকে আনতে পারবে?
যে পারমু।
সবুজকে নিয়ে সুফি ব্যাটেলিয়ন সদরের বাইরেই অপেক্ষায় ছিলো। ক্যাপ্টেন সাহেবের নির্দেশে সবুজকে ব্যাটেলিয়ন অফিসে ডেকে নেয়া হয়। সবুজের লেখাপড়া, আচরণ ইত্যাদি দেখে ক্যাপ্টেন সাহেব অবাক হয়ে যান, তিনি ভীষণ মুগ্ধ হন।
তিনি ব্যাটেলিয়ন কমাণ্ডারকে অনুরোধ করে ছেড়ে দেন মেনাজ মণ্ডলকে। ওই মামলায় মেনাজের দু’জন সহকর্মীর সাজা হয়ে গিয়েছে। মেনাজ প্রতিজ্ঞা করেছিলো অন্য কাজ করে খাবে, জীবনে আর কোন দিনও স্মাগলারী করবেনা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, রাজাকার করম আলীর জাল থেকে সে আজও বের হতে পারেনি।




Clean design and very easy to navigate. I didn’t spend much time searching for my favorite games. 5win5com knows exactly what players want.
Win1winapp is pretty convenient because it’s on my phone. Good for quick spins when I’m bored. Give their app a download. win1winapp
Really loving the interface here. Everything is easy to navigate and the bonuses are actually fair. Highly recommend vnxs666 for anyone looking for some action.
Love the promotions they run every weekend. It keeps the gameplay exciting and rewarding. I always suggest ph555taya to my buddies.
Super impressed with the mobile version. I can play anywhere without any glitches. If you are on the move just use braposta1.