অনির্বাণ…
রাতভর দুঃখ পাশে নিয়ে ঘুমিয়েছো কখনো?
আমি ঘুমাই,প্রতিদিন!
তুমি যে দুঃখ গুলো দিয়ে গিয়েছো আমায়,সেগুলো মনে হয় শক্ত পাথর!
ভাঙেও না, সরেও না,ঠিক যেই যেই জায়গায় যেভাবে রেখে গেছো,তারা সেভাবেই পড়ে আছে,
যেনো কোনো জড় বস্তু!
অথচ- আমি ভেবেছিলাম, দুঃখরা বোধহয় পথে অনাদরে পড়ে থাকা শিমুল তুলোর মতো হয়!
হালকা বাতাসেই উড়ে যায় শহর ছেড়ে, সঙ্গ ছেড়ে!
অনির্বাণ…
যেকোনো দুঃখই তো আমি আকাশে উড়িয়ে দিতাম,
দুঃখরা উড়ে যেত, আমি তাকিয়ে দেখতাম যতক্ষণ দেখা যায়!
অতঃপর – নিঃশ্বাস ফেলে ঘরে ফিরতাম!
বলতে পারো? তবে,তোমার দেয়া দুঃখের ওজন এত ভারী কেনো?
কিছুতেই ওড়ানো যায় না,পোড়ানোও যায় না!
দিনরাত বসে থাকতে হয় কোলের কাছে নিয়ে?
কি মেশাও দুঃখের সাথে?
ভারী কোনো পাথর নিশ্চয়ই?
না হলে কেনো বুকে নিয়ে চলতে গেলে দমবন্ধ লাগে?
মাথা ঝিমঝিম করে, চোখে অন্ধকার দেখায়!
পা ফেলতে কষ্ট হয়,কেনো বলো?
অনির্বাণ…
কও তো? মানুষকে দুঃখ দেয়ার এমন সুনিপুণ কৌশল তুমি শিখলে কোথেকে?
তুমি তো এমন ছিলে না আগে!
ভুলক্রমে একবার পায়ের নিচে পিষে যাওয়া একটা পিপড়ের জন্য তুমি আফসোস করেছিলে!
মনে আছে? কতদিন তুমি ঠিকমতো খাবার খাওনি,পিপড়েরা অভিশাপ দিবে বলে!
কতদিন পুষে রেখে ছিলে সেই শোক!
এসব দেখেই তো প্রেমে পড়েছিলাম আমি,ঠিক প্রেম বলা যাবে না, আসলে আটকে গিয়েছিলাম মায়ায়!
ভাবছিলাম, একটা পিঁপড়ের জন্য যার এত মায়া, সে – তো যত্ন নেওয়া মানুষকে দুঃখ দিবে না কোনোদিন?
আমার ভাবনা গুলো এতটাই ভুল ছিলো বলো?
কি করে পারলে অমন স্নিগ্ধ স্বীকারোক্তিতে হৃদয় ভাঙতে?
পিঁপড়েকে দেয়া দুঃখ নিয়ে তুমি ঘুমাতে পারলে না,
অথচ- আস্ত একটা মানুষকে দুঃখ দিয়ে কেমন করে ঘুমাও?
অনির্বাণ…
সময় পেলে একবার এসো!
দেখবে কেমন তোমার দুঃখকে পাশে নিয়ে রোজ ঘুমিয়ে পড়ি!
সব দুঃখ আকাশে উড়িয়ে দিলেও,
তোমার দুঃখ যত্ন করে রেখে দেই সিথান কোনে!
ইতি,
অপর্ণা



