সৈকতে মানুষের ভীর জমে আছে!
পর্যটকরা সবাই খুব চিন্তিত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসেছে দুটি লাশ! একজনের চেহারা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে হয়তো মাছে ঠুকরে ঠুকরে ছিঁড়ে খেয়েছে। সুহাস আর সৌমিত্র ভীর ঠেলে সামনে গিয়ে দেখল। লাশ দুটি বালুর উপর পরে আছে। সর্বাঙ্গ ফুলে ফেঁপে তুলার বস্তার মতো হয়ে আছে। কোমড়ে লুঙ্গি পেচানো তবে লাশ ফুলে ফেঁপে ওঠায় চামড়া ভেদ করে কোমড়ের সাথে লুঙ্গি আঁটকে গেছে।
লাশের কন্ডিশন দেখে মনে হচ্ছে দু-তিন দিন আগে নৌকাডুবি হয়েছে। দুজনার গায়ের সাথে ইলিশের জাল দেখে কারো বুঝতে বাকি রইলো না নির্ঘাত জীবিকার সন্ধানে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল। ঝড়ের কবলেই হয়তো নৌকাডুবি হয়েছে।
সবাই লাশ দুটিকে সত্যায়িত করার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাংবাদিক এসে ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছে। ভিডিও নিয়ে নিউজ তৈরি করছে। সবার ভিতরেই একটা আতংকের সৃষ্টি। পরিবারের সুখের জন্য মানুষ কতই না কষ্ট করে। জীবনের মায়া ত্যাগ করে গভীর সমুদ্র পাড়ি জমায়। মৃত্যুকে হাতে নিয়ে বাবা-মা স্ত্রী সন্তানের মুখে দু’বেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য অশান্ত সমুদ্রের বুকে দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর তুফানের সাথে লড়াই করে!
ফেসবুকে একজন কমেন্ট করে জানিয়েছে যার চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার নাম মিলন। রাংগাবালী উপজেলার চরযমুনায় বাড়ি। ফোন নম্বর সংগ্রহ করে দু জনার পরিবারের সাথে কথা বলা হয়েছে। সমুদ্রে তাদের নৌকাটি উল্টে গেছে বাকি সবাই বেঁচে ফিরলেও বেঁচে ফিরতে পারেনি মিলন আর সোহরাব হোসেন। জালের সাথে পেঁচিয়ে যাওয়ায় উপরে উঠতে পারেনি। নিখোঁজ ছিল তিনদিন ধরে। স্বজনদের আহাজারিতে ভেঙে যাচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চল। গ্রামের সবাই হা-হুতাশ করছে, ওদের অকাল মৃত্যু কেউ যেন মেনে নিতে পারছে না।
সবাই ভ্রমনের আনন্দ ভুলে লাশ দু’টি দেখছে। নির্বাক, স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সকলে। সুহাস সৌমিত্রকে বলল ” এমনও কারো মৃত্যু হতে পারে!”
” ইস! না জানি বাঁচার জন্য কত চেষ্টাই করেছে ! “
” পৃথিবীতে সব থেকে বড় নেয়ামত হচ্ছে কি জানিস?”
সৌমিত্র উত্তর দিলো না লাশের দিকে তাকিয়ে আছে। সুহাস পুনরায় বলল ” বেঁচে থাকা! একজন মানুষ শুধু যে নিজের জন্য বাঁচে তা কিন্তু নয়। তার সাথে জড়িয়ে থাকে পরিবার পরিজন হাজারো স্বপ্ন হাজারো ভবিষ্যৎ। “
এমন ঘটনায় সবাই আতংকিত। কি করবে না করবে ভেবেই পাচ্ছে না। এর মধ্যে পুলিশের গাড়ি এসে থামল। এস পি মতিউর লাশ দেখেই বুঝতে পেরেছেন নৌকাডুবি হয়েছে তবুও সন্দেহর ঘোর কাটাতে বললেন ” মার্ডার কেস! “
ওসি সিকান্দার চোখ বাঁকিয়ে বলল ” স্যার, স্পষ্ট দেখা যায় নৌকাডুবি হয়েছে!”
এস পি মতিউর কিছুটা রাগান্বিত হয়ে বললেন ” আপনি নৌকাডুবির সময় সাথে ছিলেন!”
” না স্যার। “
“তবে কেমনে বুঝলেন মার্ডার না নৌকাডুবি? শুনুন আমরা যা দেখি তা ঘটে না, যা ঘটে তা আমরা দেখি না বুঝলেন? ত্রিশ বছরের এক্সপেরিয়েন্স।”
” জ্বে স্যার। “
” তবে চুপ করুন। আমার কাজ আমাকে করতে দিন। “
এস পি মতিউর লাশের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা উঁচু নিচু করে ঠোঁট কেটে কি যেন ভাবলেন। তারপর সোহরাব হোসেনের বাড়ির নম্বর নিয়ে ফোন করলেন। ” হ্যালো।
“ওপাশে কান্নার আওয়াজ। “
এস পি মতিউর পুনরায় বললেন ” আমি এস পি মতিউর বলছি। আপনাদের কাউকে সন্দেহ হয়!”
” না ছার, ওনাদের কোনো শত্রু আছিলো না… ” ওপাশ থেকে আর কিছু বলতে পারল না কান্নায় কথা আটকে যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ থেমে এস পি মতিউর লাশের দেহ পর্যবেক্ষণ করতে করতে বললেন ” লাশ আপনার কে হন? “
” আমার বাবা!”
” আপনার নাম কি?”
” স্নেহা। “
এস পি মতিউর নামটি মুখে উচ্চারণ করে বললেন ” ! আচ্ছা স্নেহা আপনাকে প্রয়োজন হলে আবার কল দিবো। “
ফোন কেটে দিয়ে লাশ দুটিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। যেখানে সন্দেহ হয় ছবি তুলে রাখছে। মাঝে মধ্যে কিসব যেন নোট করছে।
সুহাস একাকিত্বে সমুদ্রের দিকে কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। স্নেহার নাম শুনে সুহাস বিচলিত হয়ে ভাবলো এই স্নেহা ওর স্নেহা নয়তো? যার জন্য এতটা অপেক্ষায় অসহায় হয়ে আছে।
স্নেহা হচ্ছে সুহাসের অপূর্ণতা! যার শূন্যতা পূরণের জন্যই প্রতিটা মূহুর্ত ওর প্রতিশ্রুতি নিয়ে বেঁচে আছে। যাকে এক পলক দেখার জন্য জীবনের সমস্ত সময় বিসর্জন দিতে রাজি! চাতক যেমন বৃষ্টির অপেক্ষায় তৃষ্ণার্ত হয়ে তাকিয়ে থাকে তেমনি সুহাস স্নেহার অপেক্ষায় তাকিয়ে থাকে। যাকে দেখার জন্য বার বার ছুটে আসে। বন্ধুরা কেউ না এলেও সুহাস প্রতি বছর দু একবার কুয়াকাটা আসে। সময় সুযোগ না পেলেও কলেজ ফাঁকি দিয়ে অসুস্থতার কথা বলে হাজির হয়। প্রতি বছর কুয়াকাটায় আসার কৌতুহলী কোন কারণ নেই এমন নয়।
❝একবার বছর চারেক আগে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটা ঘুরতে এসেছিল। গোধূলির শেষে সন্ধ্যা নামার অল্প কিছু আগে সবাই মিলে সূর্যাস্ত দেখছে। পৃথিবী তার সমস্ত দিনের ক্লান্তি ঘোচানোর জন্য সূর্যকে ঘুম পারিয়ে দিচ্ছে। চারিদিকের কোলাহল পরিবেশ কিছুটা ঘন হতে থাকে। সন্ধ্যা এলেই পর্যটকরা সমুদ্রের পানির কাছে নেমে আসে। মুক্ত পরিবেশে মুক্ত মনে ঘুরে বেড়ানোর জন্য।
সুহাস একটি চেয়ারে বসে কফি খাচ্ছে। কফি ওর বড্ড প্রিয়। হাতে কফি থাকলে পুরো রাত্রি একা একা কাটিয়ে দিতে পারে। সমুদ্রের বুক থেকে শো-শো বাতাস তীরের দিকে ধেয়ে আসছে। সুহাসের হঠাৎ চোখ পড়ল ছোট ছোট উর্মিমালায় পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে। চুল তার বাতাসের তালে তালে দিক্বিদিক উড়ছে। সুহাস মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আলো-ছায়ার খেলায় ঠিক যেন সমুদ্রকন্যা কোনো স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে ভিজতে ভিজতে। সন্ধ্যার আলো আঁধারের প্রতিযোগিতায় চর্যাপদের ভাষার মতো কিছুটা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মেয়েটিকে। যেটুকু মনে হচ্ছে মেয়েটারও সমুদ্র বেশ প্রিয়। না হলে এতো মুগ্ধতার দৃষ্টিতে কেউ তাকিয়ে থাকে?
সুহাস ছোট বেলায় একবার দাদুর মুখে শুনেছিল প্রিয় জিনিসের দিকে মানুষ ভালোবাসার দৃষ্টিতে অপলকে তাকিয়ে থাকে। মেয়েটিও ঠিক সমুদ্রের দিকে অপলকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে যেন সুযোগ পেলেই ঝাপিয়ে পড়বে ভেসে আসা স্রোতের উপর। জীবনের যত ক্লান্তি যত অবসাদ সব ধুয়ে মুছে বিসর্জন দিয়ে দিবে বঙ্গোপসাগরে।
ততক্ষণে পশ্চিম আকাশে লাল বর্ণের ছাপ পড়েছে। সাদা বক গুলো সারি বেঁধে উড়ে যাচ্ছে। সুহাসের ইচ্ছে হচ্ছে কোন একটি পাখির ডানায় চড়ে উড়ে যেতে কোন এক অজানা ভাসমান চরে। যেখানে কোন কোলাহল নেই, কোন স্বার্থের গান নেই। আছে শুধু অফুরন্ত ভালোবাসার সুর। মেয়েটি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একপা দুপা করে হেঁটে হেঁটে ওর পাশের চেয়ারটায় বসল। ওর দিকে ক্ষানিকটা দৃষ্টি দিয়ে বলল ” সমুদ্র আপনার কেমন লাগে? “
অপরিচিত লোকের মুখে এমন প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে গেল সুহাস। মেয়েটি পুনরায় বলল ” আমার বড্ড ভালো লাগে জানেন। সমুদ্রের কাছকাছি বসে এক কাপ কফি আর একটা বই হাতে থাকলে! অনায়াসেই কয়েক যুগ পার করে দেওয়া যায়। “
সুহাস মনে মনে ভাবছে ” মেয়েটা নিশ্চয়ই বই পড়ুয়া। নয়তো এত এত আধুনিকতার যুগে বইয়ের প্রশংসা ক’জন করে। অপরিচিত স্থানে অপরিচিত সুর। কিছুটা অবাক হচ্ছে সুহাস! তবুও পরিচিত হওয়ার জন্য মনে মনে উৎসাহিত হতে না হতেই মেয়েটি বলল “আমি স্নেহা! প্রচুর বই প্রেমী, সমুদ্র দেখতে ভালো লাগে। চা, কফি বড্ড প্রিয়।”
মুচকি হেঁসে হাতের কফির দিকে তাকিয়ে সুহাস বলল ” আমি সুহাস। বই তেমন একটা না পড়লেও। কফি খেতে খেতে সমুদ্র দেখতে অনেক ভালো লাগে। ”
” আরে বাহ্, চমৎকার! আমারো তাই। আমাদের দেখছি দারুণ মিল। “
” হুম, তাই তো দেখতে পাচ্ছি। আ… কফি খাবেন?”
“না না, ধন্যবাদ।”
“ঘুরতে পছন্দ করেন?”
“হুম, মন চায় যতদিন বেঁচে থাকি পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে বেড়াই সমস্ত পৃথিবী। কিন্তু বন্দী খাঁচার পাখি আমি! চাইলেই বেরুতে পারি না নিজের ইচ্ছায়!”
“মানে, বুঝলাম না? “
” আমাদের সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে। যারা কাঁচের তৈরি পুতুলের মতো। সব কিছু দেখে অনুভব করে কিন্তু চাইলেই পাখির মতো উড়তে পারে না! চাইলেই স্বাধীন ভাবে ছুটতে পারে না। আমি হলাম তেমনই একজন মানুষ। যার নিজের না আছে স্বাধীনতা, না বেঁচে থাকার ইচ্ছা।”
” এসব কি বলেন! “
“না না। কিছু না।”
” আপনার কি কোন কারনে মন খারাপ? “
স্নেহা মৃদু হেঁসে বলল ” যার মন নেই, তার আবার মন খারাপ! আর মন খারাপ হলেই বা কি? “
” দুঃখ শেয়ার করলে কমে! “
” না, কমতে হবে না। দেখি এই রাক্ষুসে দুঃখের শেষ কোথায়! “
“সরি! আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলায়। “
” না না, সরি বলার কিছু নেই” কথা শেষ না করেই স্নেহা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল ” আচ্ছা থাকুন, বড় আপা ডাকছে। অন্য কোন দিন দেখা হবে, কথা হবে। ”
মেয়েটির কথায় সুহাস অবাক হয়ে গেল “অন্য কোন দিন দেখা হবে, কথা হবে!”
অনেক্ক্ষণ কি যেন ভেবে সুহাস উচ্চস্বরে বলল ” এই যে দেখা হবে কথা হবে দীর্ঘসময়ের এই আকাঙ্ক্ষার নাম কি জানেন?”
স্নেহা দৌড়ের অবস্থায় বলল “অপেক্ষা! ❞
সেই অপেক্ষাতেই সুহাস আজও প্রতি বছর শত কাজের ফাঁকেও কুয়াকাটা আসে। সুহাস জানে, কোন দিন হয়তো ওদের আর দেখা হবে না। তবুও সেই প্রত্যাশিত অপেক্ষার মিলন ঘটাতে সমুদ্রের স্রোত দেখতে ছুটে আসে। ছোট্ট একটা মূহুর্তের প্রেমে পরে যায় সুহাস। বারবার ফিরে পেতে চায় সেই মূহুর্তটা। তাই আজও বিশ্বাস করে কোন এক দিন পথের শেষে তাদের আবার দেখা হবে। মাঝে মাঝে খুব করে ভুলে যেতে চায় অপেক্ষার আক্ষেপ গুলো কিন্তু চোখ বুজলেই কি যেন একটা অপূর্ণতা তাকে গ্রাস করে ফেলে। শত চেষ্টা করেও ভুলতে পারেনা, স্মৃতির চাদর থেকে মুছে ফেলতে পারে না মায়াবী চিহ্ন টুকু। অদৃশ্য মায়ায় অস্তিত্বটুকু বাঁচিয়ে রাখছে। তিলে তিলে পুষে রাখা স্বপ্নের মহা রাজ্যে।




Finally found a site that doesn’t crash every five minutes. The navigation is intuitive and the bonuses are generous. Love laga88login so far!
Finally a platform that understands what we need for quick and smooth play. Transactions go through instantly and I love how the app runs without any lag. My community has been talking about it nonstop. ng1winnigeria
Great selection of games and the account setup took less than two minutes. Really impressed with the overall quality of jilibet777loginregister.
The VIP treatment here is legit. I feel like a valued player and the rewards are genuinely generous. Great job jilibayvip!
If you love a good challenge and a friendly community, this is the place to be. The gameplay is super intuitive and keeps me entertained for hours. Visit bingopattigameonline now.