সুহাস সাহেব,
তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে না? তারপর আমার কেনো আর প্রেমে পড়া হয়নি। এই প্রশ্নের একটা দীর্ঘ উত্তর আছে আমার কাছে। শুনবে??
তবে শোনো,
তুমি ছাড়া কেউ কখনো আর আমার জীবনে একজন শ্রোতা হতে পারিনি । আমি আর কাউকে অকপটে বলতে পারিনি, কেরোসিন তেলের ঘ্রাণ আমার ভাল্লাগে। এই অহেতুক কথাখানা শুনার মত কাউকে পাইনি আমি কখনো।
আমি কারো সাথে আর দীর্ঘক্ষণ আলাপ করতে পারি নি বাংলাদেশের মেরুদণ্ডবিহীন রাজনীতি নিয়ে। কেউ আলাপে জড়ায়নি বাংলা ভাষার শুদ্ধ – অশুদ্ধ বানান নিয়ে। তারপর আর কারো সাথে আমার “কবিতা লেখা অহেতুক সময় নষ্ট” শিরোনামে বিতর্ক হয়নি।
সুতি সবুজ রঙের শাড়ির সাথে ছোট্ট কালো টিপ পড়তে হয়-এই অসম্ভব সুন্দর লাইন খানা আমার আর কারো মুখে শোনা হয়নি৷ তুমি চলে যাওয়ার পর, কেউ কখনো মনে করে বলেনি, আমি চায়ে চিনি খাইনা কিংবা ঝালমুড়ি তে খাই না ঝাল…! আমাকে টিটকারি মেরে কেউ আর বলেনি, “শেষের কবিতা” আবার কারো প্রিয় উপন্যাস হয়নাকি??
তুমি চলে যাওয়ার পর আমি বিস্বাস করে নিয়েছি,
চলে যাওয়ার শেষ চিহ্নটুকু দেখা যাওয়া পর্যন্ত আমি তাকিয়ে থাকব, এই বিস্বাসে কেউ তাকাবে না আবার পিছন ঘুরে।
তুমি কি ভাবছো?? এসব পেলেই আমি আবার প্রেমে পড়ে যেতাম?? সারাজীবন কি শুধু কথায় ভুলই ধরবে আমার?? পরেরটুক বলতে তো দিবে…
এসব পেয়ে গেলেও হয়ত আমি তোমার শুন্যতাকেই ভালোবেসে যেতাম।
কি করে প্রেমে পড়তাম নতুন করে?
তুমি থাকতে তোমার যে দিকগুলো উপলব্ধি করে ভালোবাসা হয়নি আমার, চলে যাওয়ার পর সেই শুন্যতাটুক ভালোবাসি আমি। ভবানার কত কাছে তুমি, তবু উপস্থিতি আলোকবর্ষ দূর…
আচ্ছা, তুমি কি জানবে কখনো? তুমি না থাকাতে কি অসম্ভব দহন হচ্ছে মন গহীনে। হয়ত কখনোই জানবে না। তবু ভালো থেকো ভালোবাসা।
ইতি
চারুলতা
(যে তোমার কেউ না)



