আপনারে নিয়েই যে আমার সুখ কুড়াতে হবে – কৃষ্ণচূড়ার মতোন;
এমনটা— কোথাও লেখা নাই!
আপনাকে হারাইবার দুঃখ — আমার জগতে তুচ্ছতম দুঃখের মধ্যে একটা!
বিশ্বাস করুন;
আপনারে হারাইয়া যতটা না আফসোস করেছি— তার চে বেশি আফসোস করেছিলাম একবার শৈশবে!
আমার শখের ঘুড়িটা খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে!
ঘুড়ি হারাইবার দুঃখ আমি নিজের মধ্যে জমা রাখতে পারিনাই;
আম্মারে— জড়াইয়া কান্না করেছিলাম অনেকক্ষণ!
কই…?? আপনারে হারাইবার দুঃখেতো আম্মারে কইবারও পারিনাই!
কেবল আম্মারে কেনো;
জগতের কাউরেই কইবার পারিনাই যে— আপনি হারাইয়া গেছেন চিরতরে!
যে দুঃখ নিজে নিজেই পুইষা লওন যায় নিজের কলিজায়— সে-ই দুঃখ আর কি এমন?
আপনার দেওয়া আঘাত খানও এমন খুব তীব্র আঘাত নয়!
দাগও পড়েনি কোথাও— আঘাতের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাইনি আমিও!
এর চেয়ে— অনেক বেশি আঘাত পেয়েছিলাম কৈশোরে ;
লুকিয়ে পাশের বাড়ি চারুলতার প্রেমপত্র পড়বার অপরাধে!
চারুলতা — রাগ কইরা আমারে চিমটি কেটেছিলো মুখে;
সেই চিমটির দাগ আমি দেখিয়ে বেড়িয়েছি জনে জনে!
এমনকি— চারুলতার বাপজানরে দেখাইয়া বিচারও দিছিলাম চারুলতার নামে;
যে আঘাতের চিহ্ন দেখাইয়া কাউরে বিচার দেওনা যায় না- সে আঘাত আর কি এমন?
আপনার করা অপমান গুলোও তেমন গায়ে লাগার মতোন ছিলো না!
এর চেয়েও বেশি অপমানিত হইছিলাম মাধ্যমিকে অংকে সাইত্রিশ পাওয়ার অপরাধে!
স্যার সেদিন পুরো ক্লাসের সামনে আমাকে দাড় করিয়ে রেখেছিলেন ঘন্টাখানিক!
সেই— অপমানের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আজ আমি অংকের মাস্টার!
অথচ- আপনার করা অপমানে — আমার কখনো প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে করেনাই!
যে অপমানের প্রতিশোধ নিতে ইচ্ছে হয়না— তা আর কি এমন?
চিরসত্য — এটাই যে,আপনারে লইয়াই যে সুখ কুড়াইতে হইবে কৃষ্ণচূড়ার মতোন;
এমনটা— কোথাও লেখা নেই,
কোথাও নেই…



