মেনাজ মণ্ডলের বয়স ষাট পেরিয়ে গেছে। মণ্ডল পরিবার পুরোই ভূমিহীন, পৈত্রিকসূত্রে প্রাপ্ত একখণ্ড ফসলী জমি ছিলো তাও করম চেয়ারম্যানের হাতে বন্ধক, বসত ভিটেও বন্ধক দেয়া। করমের দোষ নেই সেতো বহুবারই বলেছে-
ও মেনাজ, তোর জমি ছাড়াইয়া নেও না ক্যান? ওতে আমার তো কোন লাভ হয়না খামোখা কতোগুলান টাকা আটকাইয়া রইলো।
মণ্ডল শুধু নীরবে তাকিয়ে থেকেছে, কিছুই বলতে পারেনি। ছাড়ানোর জন্যে চাই টাকা। কিন্তু তা সে পাবে কোথায়? ইন্ডিয়া থেকে মাল আনা-নেয়ায় যে কয় টাকা পায় তাতে পুরোমাস পেটই তো চলেনা। তার উপর বছর পাঁচেক আগে সুফি’র অসুখের সময় যে টাকা কর্জ আনতে হয়েছে তার সুদ গুনে গুনে মণ্ডল আর শ্বাস নিতে পারেনা।
করম চেয়ারম্যান মান্যগন্য লোক। দশগ্রামের মাথা। সে কী মণ্ডলের উপর অবিচার করতে পারে! মণ্ডলের শরীর আগের মতো নেই তবু তাকে কাজ থেকে বঞ্চিত করেনি। মণ্ডলের বউ সুফিও করম আলীর চাতালে কাজ করে, স্মাগলিংএর মাল টানে।
চেয়ারম্যানকে দোষ দিতে পারেনা মণ্ডল, সে অনেকই করেছে তবু মণ্ডল সাহসের উপর ভর করো বলে-
আমনের দয়ায় বাইচ্যা আছি চেয়ারম্যান। আপনি থাকতে দিছেন তাই বাড়িটায় থাকি। ইচ্ছে করলে আমনে জমিনডাও ছাড়ি দিতে পারেন। ওই জমিডা ছাড়া আমার তো আর কিছুই নাই। ওগুলান যে ছাড়াবো এমন সামর্থ্য কই?
সামর্থ্য যদি নাই থাকে তবে আর ও কথা বলিস কেনে মণ্ডল। তোগের চলার জন্যি যা লাগছে আমিই তো দিচ্ছি, কী বলিস?
কী আর বলবে মণ্ডল, অগত্যা চুপ করে থাকে। জীবনে কাজের মধ্যে ঐ একটি কাজই শিখেছে। ওধারকা মাল এধার আর এধারকা মাল ওধার। যখন ক্যাম্পে ইনফরমারী করতো তখন মালদহ শহরের উপকণ্ঠে বিয়ে করে মণ্ডল। সেই থেকে টুকটাক মালামাল আনা নেয়ার কাজে জড়িয়ে পড়ে কিন্ত এতে অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। মাঝে মাঝে আফসোস হয়, কত লোক স্মাগলিং করে ফুলে ফেঁপে কলা গাছ হয়ে গেলো! মেনাজের সেই নুন আনতে পানতা ফুড়ানোর দশা আর গেলোনা।
সবুজের জন্যে দুঃখ হয়। একমাত্র ছেলে মেনাজের। চেয়েছিলো ভালো লেখাপড়া করাবে কিন্তু গরীবের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে বরাবরই আকাশ সমান দূরত্ব। চাইলেই কী সব নাগালে পাওয়া যায়!
কচি বয়সে ছেলের মুখের দিকে তাকাতে পারেনা মণ্ডল। দিনরাত এক করে চেয়ারম্যানের চাতালে কাজ করে, চেয়ারম্যানের নির্দেশে স্মাগলিংএর বোঝা বয়। তয় সবুজকে চেয়ারম্যান ভালোও বাসে। সবুজের গানের জন্যে তো করম চেয়ারম্যান একরকম পাগলই। সময় পাইলেই সবুজরে ডাইকা করম চেয়ারম্যান গান শুনবো। তবু সবুজেরও তো ভবিষ্যৎ আছে। সামনে বিয়ে শাদী করাইবে, নাতি নাতকুর দেখবে কিন্তু পরের গোলামরে মেয়ে দিবো কে?
মাঝে মাঝে নিজেকে ধিক্কার দেয় মণ্ডল, বির বির করে বলে-
তুই ভাতে মরবিনা তয় কোন শালা মরবে? করম চেয়ারম্যানের লগে লাইগ্যা থাইক্যা কী পাইলি? পেটের ভাতই যোগার হয়না! বোন্দে আলীর লগে থাকলে আজ কইরা খাইতে পারতি। কই বোন্দে আলী আর কই করম আলী! কতো লোক বোন্দে আলীর কারবার কইরা মানুষ অইয়া গেল! দু’একবার তার সাথে কামে লাগার সিদ্ধান্তও নিয়েছে কিন্ত আখেরে সমস্যা দেখা দিয়েছে করম চেয়ারম্যান। তার কাছ থেকে মুক্তি নেই মন্ডলের। জমিজমা বন্ধক, নিজের বউ বাচ্চাও বন্ধকের মত।
আবার ভাবে বোন্দে আলীর যে কারবার ওসব কাম মেনাজ মণ্ডলের সইবে না, সে তা পারবেনা। সবুজের মার সাথে আলাপ করে মণ্ডল। সবুজের মা বলে-
থাউক সবুজের বাপ বেশি খাইয়া কাম নাই। অল্প খামু কতায় কয়না- লোভে পাপ পাপে মৃত্যু! আল্লায় আমগো যে সোনার চাঁন পুত দিছে এর চাইতে সোম্পদ কী?
কথা একেবারেই সত্য সবুজের মতো ছেলে হাতে বানালেও হবেনা। যেমনি শরীর-চেহারায়, তেমনি আচার-আচরণে। সবাই বলে মণ্ডলরে আল্লায় একটা ছাওয়ালই দিছে! গর্বে তখন মণ্ডলের ছাতি ফুলে উঠে।
তখন মেনাজ কেবল বিয়ে করেছে। মালদহ থেকে সুফিরে এনে কেবল ঘরে তুলেছে। নতুন বউ, তাছাড়া মণ্ডল বেশি বয়সে বিয়ে করায় নিজে যতোটা বুড়ো হয়েছে সবুজের মা কিন্তু তেমন না, একেবারেই কাঁচা বয়স। এ রকম বউ ঘরে থাকলে একটু প্রসাধনী, ভালো কাপর চোপড়, টাকা পয়সা তো লাগবেই। বোন্দে আলীর লোক রেজাউল বলেছিলো-
করমরে ছাইরা আমাগো লগে কাম কর মণ্ডল, মানুষ অইতে পারবি।
মণ্ডল দাগী স্মাগলার কিন্ত তার সততা আছে। রেজাউলরে কোন উত্তর করেনি তবে মনে মনে বলেছে, না না তা হয়না। করম চেয়ারম্যানরে ছাইরা যাবে তেমন বেঈমান কেমনে হবে!
বোন্দে আলী সম্পর্কে মেনাজ মণ্ডল জানে। জানে বলতে লোকমুখে বোন্দে আলীর নানান কীর্তি-কাহিনী শুনেছে, কোনদিন চোখে দেখেনি। আসলে বোন্দে আলীকে এ অঞ্চলের কেউ কোনোদিনই দেখেনি। সে কোথায় থাকে, দেখতে কেমন- তাও কেউ জানেনা।
তিনি নাকি স্মাগলিং লাইনের আন্তর্জাতিক স্টার, যাকে বলে গড ফাদার। তার লাইনই ভিন্ন। এইসব গরু বাছুর, মশলা-পাতি, শাড়ি- চুড়ি তার কারবার না। তার হলো স্বর্ণের কারবার। চরস, হেরোইন না কীসব কী মাদকের কারবার।
রেজাউলের এক লোকের কাছে শুনেছে, সে এলাহি কারবার। বিমানে করে আসে স্বর্ণের বিস্কুট, সে স্বর্ণের বিস্কুট পাচার হয় ইন্ডিয়া। মণ্ডলের মাথায় ধরেনা যে স্বর্ণের বিস্কুট বিমানে এদেশে আনতে হবে কেন? ইন্ডিয়াতেই যদি পাচার হবে তাইলে তো ইন্ডিয়াতেই আসতে পারে।
রেজাউল বলেছিলো-
মণ্ডল, বোন্দে আলী ভাই তোমার কতা কইছে। পারলে করমরে ছাইড়া তার লগে কাম করো। কাম কিন্তু খুবই সোজা।
সোজা কী রকম?
সোজা মানে সোজা! মাত্র দশ পিস বিস্কুট ওপারে পৌঁছাইয়া দেবা। মাসে আর লাগবেনা একবারের কামাইতেই পুরা মাস বইয়া খাবা। কথাটা মনে ধরেছিলো মণ্ডলের। কিন্তু বেঁকে বসেছিলো তার বউ। বলছিলো-
তুমি সোজা মানুষ, চিনি, জিরা আনো ধরা পড়লে মাফ পাইবা। ওসব কাম ভালো না একবার ধরা পড়লে জীবনে আর বাইরাইতে পারবানা।
প্রকৃত অর্থে মণ্ডল কিছুটা সোজাই। বুদ্ধিসুদ্ধি যে নেই তা নয় তবে একেবারেই সহজ সরল। ভেতরে প্যাচ গোজ খুবই কম।
মণ্ডলের বউ সুফিয়া কিন্তু ওরকম নয়। সে ভীষণ বুদ্ধিমতি। ভালো বাড়ির মেয়ে। পয়ত্রিশোর্ধ সুফিয়া দেখতে এখনও ঘোরলাগা সুন্দরী। দীর্ঘাঙ্গী মেয়ে মানুষটির এখনও ভরাট যৌবন। আয়াতকার দুটি চোখ, চোখের ভেতরে গভীর কালো দৃষ্টি। ছেড়া-ময়লা কাপড়ের নীচে মাথাভর্তি দীঘল কালো চুল। চাল-চলনে, কথা-বার্তায় চপলা অথচ মায়াভরা যাদু যে কোনো পুরুষকে সহজেই আকৃষ্ট করতে সক্ষম। সুফিয়া চাইলে মণ্ডলরে ছেড়ে ভালো কোন পুরুষের ঘরে যেতেই পারে কিন্তু তা সে যাবেনা। সে বলবে- সোয়ামী বুড়ো অইলেই কী? সোয়ামী তো সোয়ামীই।
ছমিরদ্দি তো সব সময়ই বলেন- বুজলে মণ্ডল ‘জাতের মাইয়া কালাও ভালো, নদীর জল ঘোলাও ভালো’। তোমার অইলো কপাল, যে বয়সে বিয়া করছো তাতে জাতের মাইয়া না অইলে তোমার কপালে দুঃখ অাছেলে।




Super impressed with the customer support here. They answered my questions quickly and the bonuses are actually worth it. Go for acejiliapp!
Finally found a reliable source to get the APK. Installation was quick and it works without any glitches. Download via win222downloadapk!
The VIP perks are actually meaningful and make the experience feel premium. Great service all around for jilifvip