“আসবো স্যার?”_____(আফিয়া)
“হ্যা, আসুন। আর আমাকে স্যার না বলে শুধু মাহিদ বললে খুশি হব। আমরা একটা টিম আর আমিও আপনাদের মতো একজন সহকারী। সুতরাং আমার সাথে ফর্মালিটিজ দেখানোর দরকার নেই।”_____(মাহিদ)
“ওকে স্যার।”____(স্নিগ্ধা)
“জি। আচ্ছা আপনারা দুজনেই মন দিয়ে শুনুন। আমি শুনেছি আপনাদের এখানে একটা পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি আছে। মানুষ ভুতের বাড়ি বলে আখ্যায়িত করেছে। প্রায় নাকি লাশ পাওয়া যায় সেখানে।”____( মাহিদ)
“ভুত বলতে কিছু হয় না। এসবের পিছনে কোনো চক্র অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে আমি মনে করি। মানুষকে ভুতের ভয় দেখিয়ে বাড়িটা দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।”_____(স্নিগ্ধা)
“ঠিক এই কারণেই আপনাকে বেছে নিয়েছি। আমাদের নতুন প্রজেক্ট হচ্ছে জমিদার বাড়ির রহস্য উন্মোচন। আপনাদের কাজ হলো কালকে সকালের মধ্যে আসে পাশের মানুষের বয়ান নিয়ে আমাকে রিপোর্ট করবেন।”_____(মাহিদ)
“ওকে মাহিদ। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এখন তবে আমরা আসি।”____(স্নিগ্ধা)
__________________
স্নিগ্ধা আর আফিয়া ক্যান্টিনে বসে আছে।
“কিরে? এমন মুখটারে কালো করে বসে আছিস কেন?”_____(স্নিগ্ধা)
“মাহিদকেও তোর রহস্যের ভুতে পাইছে। এখন তুই তো তোর রহস্য উন্মোচনের সাথী পেয়ে গেলি। আর তোদের সাথে আমিও ফেঁসে গেলাম। এখন তোদের চক্করে যদি আমি ভুতের হাতে মরে যাই আমার ভবিষ্যৎ জামাইর কি হবে বল?”_____(আফিয়া)
“সমস্যা নাই। তোর কিছু হলে আমি আছি তোর জামাইকে সামলাতে। চিন্তা করিস না।”_____(স্নিগ্ধা)
“কি! তুই আমার সাথে এতো বড় বেইমানি করতে পারবি? আমি বিশ্বাস করি না। এ হতে পারে না। আমার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তোকে ক্ষমা করবে না।”____(আফিয়া)
“তোর ন্যাকামি বন্ধ করে তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ কর। এরপর তো আবার রিপোর্ট তৈরি করতে হবে।”____(স্নিগ্ধা)
“এতো বছর ধরে তো কম জিজ্ঞেসা বাদ করিস নি। কিছু কি পেয়েছিস? হুদাই সময় নষ্ট।”______(আফিয়া)
“পাইনি তো কি হয়েছে। পাবো না এমনটা তো না তাই না। কিছু তো পাবোই। চল এখন গন্তব্যে।”____(স্নিগ্ধা)
________________
“এসব পাগলামীর মানে কি আদিব?”_____(সিয়াম)
(আদিব টেবিলে বসে ফোন ঘাটছিল। ঠিক তখন সিয়াম একটা ফুলের বুকে এনে আদিবের সামনে রাখে।)
“দেখতেই তো পাচ্ছিস এটা একটা ফুলের বুকে। কত সুন্দর দেখতে তাই না!”____(আদিব)
“হ্যা, আমিও দেখতে পাচ্ছি এটা একটা বুকে। কিন্তু তুই কি এগুলো বন্ধ করবি না? আর কতো? এবার তো এসব শেষ কর।”_____(সিয়াম)
“করব। নিশ্চয়ই করব।”_____(আদিব)
( আদিব বুকেটাকে ভালো করে দেখছে। এমন সময় একটা চিরকুট নজরে আসে। যেটা দেখে আদিব বাঁকা হাসি দেয়। চিরকুটে রক্ত দিয়ে লেখা ছিল:
“ওর কাছ থেকে দূরে থাক। না হয় ওর জীবনের ঝুঁকি আছে। তুই নিশ্চয়ই চাইবি না তোর ভালোবাসা অকালে জীবনের মায়া ত্যাগ করুক।”
সিয়াম চিরকুটে রক্ত দিয়ে লেখা দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে।)
“আর কতকাল? আমার কথা কেনো বুঝতে চাইছিস না। এতে কারো ভালো হবে না। সবার জীবন এলোমেলো হয়ে যাবে। আর তুই তো ওরে ভালোবাসিস। তবে এ কেমন ভালোবাসা?”____(সিয়াম)
“আমি শুধু তার অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।”____(আদিব)
“তাই বলে এভাবে? আর কি কোনো উপায় ছিল না?”____(সিয়াম)
সিয়ামের কথার কোনো উত্তর না দিয়ে আদিব গাড়ির চাবি নিয়ে চলে যায়। আর সিয়াম চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আদিবের যাওয়া দেখে।
লেখক : মায়েদা জাহান মৌ
ই-মেইল : mayedajahanm@gmail.com



