আপনি আমার কাছে ততটাই প্রিয়…
যতটা প্রিয় ছিলো আমার শৈশবে করা চড়ুইভাতির আয়োজন!
আজকাল…
আজকাল আর চড়ুইভাতি হয়না!
প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বাড়ির পিছনের বাঁশঝাড়ে আর দেখা মেলেনা থোকায় থোকায় জোনাকির!
কারণ – বাড়ির পিছনে তো বাঁশঝাড়ই নেই আর!
কালের বিবর্তনে সেখানে স্থান করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক খুটি!
যাতে মিশে থাকেনা কোনো মায়ার স্পর্শ!
আজকাল আর শোনা হয়না পাশের বাড়ি থেকে কোনো এক দূরন্ত বালিকার সুর করে পড়া প্রিয় সেই কবিতার লাইন;
“বাশবাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ!
মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই??”
আজকাল…
আজকাল দিদিরা আর শোলক বলে না!
প্রযুক্তির অত্যাধুনিক চাকার চাপে পিষে গেছে মায়াবী সেই জোৎস্না রাত!
চন্দ্রালোকের সেই মায়াবী আলোকে আড়াল করে রাখে সোডিয়ামের হলুদ লাইট!
আজকাল…
চাঁদনী রাইতে বাড়ির উঠোনে আর দেখা মেলেনা কমলাবিবির জারিগান কিংবা গৃহবধূ ও রাখাল ছেলের প্রেমের গল্প বলা আসরের!
কারণ – প্রযুক্তির আধুনিকতার মোড়কে সেই রাত গিয়ে লুকিয়ে আছে জহির রায়হানের সেই” হাজার বছর ধরে” উপন্যাসের শেষ পাতায়!
আর এই সবকিছুই ছিলো আমার খুব প্রিয় শৈশবের অংশ!
আমি ছেড়ে এসেছি সেই শৈশব!
অতঃপর…
আমি আপনাকেও ছেড়ে এসেছি,
যেভাবে না চাইতেও ছেড়ে এসেছিলাম আমার খুব প্রিয় শৈশবের চড়ুইভাতির দিন!!



