মিথ্যে ও চাতুর্যের পর্দাগুলো একে একে খুলে গেলে
আমরা দেখি তাঁর রং করা মুখ। মুখোশে বন্দী বিষাদের
তীব্রতা। অথচ যে প্রশান্ত গাম্ভীর্যে তিনি আপ্যায়ন
করছিলেন; কফি হাউজের পরিমিত আলো সে স্নিগ্ধতা
স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি তাঁর সুউচ্চ সম্মানপ্রাপ্তির
গল্প শোনাচ্ছিলেন। শোনাচ্ছিলেন সেই নিরলস সাধনার
ইতিবৃত্ত। বিতাড়িত হবার গল্প শোনানোর সময় তাঁর কণ্ঠ
ধরে আসছিলো। প্রতিশোধস্পৃহা আর প্রতিজ্ঞায় স্থির
কণ্ঠস্বর। চোখের ভেতর ভয় ধরিয়ে দেয়া নগ্ন আগুন।
ছদ্মবেশ আর অভিনয় তাঁর প্রতিটি পরতে। একটা খুলে
গেলে অন্য একটা নিখুঁত মুখোশ। অথচ সব ভেদ করে
মাঝে মাঝেই যে দায়িত্বপরায়ণ চরিত্রটি উঁকি মেরে যাচ্ছেন
তাঁর মুখোমুখি হওয়া এক অনন্য অভিজ্ঞতা। মানুষের এই
ক্ষমতায় তিনি সচেতন মনে হচ্ছিলো না। তাই নিশ্চিন্তে তাঁর
মোহজাল বিস্তার করে যাচ্ছিলেন। একের পর এক রং বদল
করে দেখিয়ে যাচ্ছিলেন ঘৃণা, অহংকার, দাম্ভিকতা আর
সমস্ত পাপ অনাচারের নির্বিঘ্ন স্বরূপ। কদর্য পঙ্কিল একটা
জগতের উপর দুর্বার আকর্ষণের পাদপ্রদীপ। তিনি
বোঝাচ্ছিলেন আনন্দই পৃথিবীর একমাত্র বাস্তবতা।
ঈশ্বর যা লুকিয়ে রেখেছেন মানুষের কাছ থেকে। সেই
অনাস্বাদিত ফল হাতে নিয়ে সৃষ্টির সুচনা লগ্নের মত
একই ভঙ্গিতে প্রলুব্ধ করে যাচ্ছিলেন। অথচ প্রতিবার
তাঁর অভিনয় চাতুর্য ভেদ করে বেরিয়ে আসছিলেন-
সবচেয়ে যোগ্য, সবচেয়ে দুরূহ দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নিঃসঙ্গ দেবদূত।




চমৎকার