অ-প্রিয় মায়াবতী!
আমার না হওয়া সংসারে আপনাকে স্বগতম! আপনিই এখন আমার শখের পুরুষের মহারাণী! বলা যায়,আপনি তার শখের নারী! আপনার সৌভাগ্য দেখে হিংসে হয়, ভাবুনতো…
যে মানুষটারে আমি রাইতদিন এল কইরা সাধনা কইরাও পাইলাম না, আপনি কোনোরকম সাধনা ছাড়াই পাইয়া গেলেন তারে! তাও একদিন দুইদিনের জন্য নয়,একবছর দুইবছরের জন্য নয়,পুরো একটা জীবনের জন্য!
এখন থেকে আপনিই তার চিরপরিচিতা একজন, দিনের শুরুতে কিংবা ভর সন্ধ্যায়, সে কেবল আপনারেই খুঁজবে! সারাদিন অফিস শেষে সে আপনার আঁচলের স্পর্শে স্বস্তি মিলাবে!
তার বাড়ির শোবার ঘর থেকে রান্নাঘর অবধি প্রত্যেকটা আসবাব পত্র আপনাকে চিনবে, তার ঘরের সামনের বড়ই কিংবা আমগাছটাও আপনাকে চিনে নিবে ধীরে!
আমার কোনোদিনও যাওয়া হয়নি, তবু বলছি,তার বাড়ির পিছনে কিংবা সামনে যদি কোনো বকুল কিংবা শিউলি গাছ থাকে,সেই ফুলগুলোও আপনাকে চিনে নিবে অতিদ্রুত!
তার বাড়ির উঠোন,বাড়ির সামনের রাস্তা, সদর দরজার গেটটা অবধি থাকবে আপনার পরিচিত!
কেবল হতভাগা আমি;
দীর্ঘ পাঁচ বছর সাধনা কইরাও তার বাড়ির কুকুরটাও আমারে চিনবে না…
তার বাড়ির পাখিগুলোও দেখবে না আমারে!
অথচ- তার বাড়ির মানুষগুলোর কাছে তখন আপনি কি ভীষণ প্রিয়!
আপনাকে অ- প্রিয় বলে সম্বোধন করেছি বলে রাগ করবেন না!
আপনিই ভাবেন একবার;
আপনার সাধনা করা শখের পুরুষকে যদি কেউ নিয়ে নিজের করে সারাজীবনের জন্য, তবে আপনিও কি তারে প্রিয় ভাবতে পারতেন?
আমিও তার ব্যতিক্রম নই!
ঐ মানুষটার প্রতি,ঐ বাড়িটার প্রতি আমার এক আকাশ পরিমাণ আক্ষেপ জমা!
আমি জানি, আমি বড্ড অগোছালো! হয়তো ঐ বাড়িটাকে আমি গুছিয়ে রাখতে পারতাম না কখনোই, তবুও আমার না হওয়া সংসারটার প্রতি আমার আক্ষেপের অন্ত নেই!
আপনি হয়তো খুব যত্নেই সাজাবেন আমার না হওয়া ঘরটা!
তবুও বলছি;
আমার অ-প্রিয় মায়াবতী!
যত্নে আগলে রাইখেন আমার না হওয়া সংসারটা!
তার সাথে খুব যত্নে রাইখেন, আমার না হওয়া মানুষটারেও!
ইতি-
আপনার একজন অ-প্রিয়…
শ্যামকন্যা!



