“কি হলো স্যার? এতো দেরি হলো যে? আজকে আপনার প্রথম জনসভা। আর আজকেই আপনি দেরি করে আসলেন। আমার আপনাকে একা রেখে আসা উচিত হয়নি। আপনারা বাবা জানতে পারলে আমাকে আস্ত রাখবেন না।”____(সিয়াম)
“ওহ… মি. সিয়াম। একটু চুপ করবেন। আপনি কি আমার পি.এ. নাকি বাবার? আর মাত্র ৩০ মিনিট লেট। It’s not a big deal…you know. যাই হোক সভা শুরু করেন। আর একটা কথা মনে রাখবেন আমি আদিব চৌধুরী। আমি কারো কথায় চলি না। আমি আমার নিজের নিয়মে চলি।”____(আদিব)
(আদিব চৌধুরী… বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্রাহাম চৌধুরীর একমাত্র পুত্র। বুদ্ধি আরজেদ বাবার মতো হলেও মনের দিক থেকে সে তার মায়ের মতই উদার আর দয়ালু। আর তার পি.এ. সিয়াম রহমান। আব্রাহাম চৌধুরীর পি.এ. সালেহ সাহেবের ছেলে এবং আদিব এর ছোটবেলার বন্ধু।)
কিছুক্ষণ আগের ঘটনা…
আদিব গাড়ি চালিয়ে জনসভার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। সে সিয়াম এবং বাকিদের আগে পাঠিয়ে দেয়। তাঁরা তাকে একা রেখে আসতে না চাইলে সে সবাইকে আশ্বাস দেয় যথা সময়ে সে সভায় পৌঁছে যাবে। তার জেদের কাছে হার মেনে সবাই চলে যায়।
আদিব গাড়ি চালাচ্ছে আর তার মায়ের কথা ভাবছে। মা থাকলে আজ কত খুশি হতেন। আদিবের ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন সে একজন রাজনীতিবিদ হবে আর মানুষের সেবা করবে। তার মনে পরে তার মায়ের বলা কথা…
(“বাবা আদিব আমি চিরকাল তোমার পাশে থাকব না। তোমাকে একাই লড়াই করতে হবে। তবে নিজের জন্য না মানুষের জন্য। তুমি আমাকে কথা দেও বড় হয়ে যখন ক্ষমতা হাতে নিবে তার অপপ্রয়োগ করবেনা। সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে। তাদের জন্য কাজ করবে।”)
আদিব ভাবছে সে কি পারবে তার মাকে দেয়া কথা রাখতে? এতো বড় দায়িত্ব পালন করতে? এমন সময় তার গাড়ির সাথে একটা স্কুটারের ধাক্কা লাগে।
“এই কোন বড় লোকের বিগরানো ওঁলাদ রে? গাড়ি চালানোর সময় চোখ কি হাতে নিয়ে নেয় নাকি কোথাও রেখে আসে?মারে আমার কোমর টা গেল বুঝি। এখনো গাড়িতে বসে আছে। এসে যে একটু সাহায্য করবে তা না।”____(স্নিগ্ধা)
এই বলে স্নিগ্ধা নিজেই উঠে দাঁড়ালো। তারপর সে তার স্কুটারটাকে ভালোভাবে দেখলো। না ঠিকই আছে। কিছু হয়নি।
“কিছু হলে আস্ত রাখতাম না এই অন্ধটারে। কিন্তু কথা হলো এই লোকটা কি অন্ধের সাথে কানাও নাকি? এতো কিছু বললাম তাও গাড়ি থেকে বের হলো না।” (মনে মনে)
এমন সময় আদিব গাড়ি থেকে নেমে এসে গাড়ির সামনে ডোনট কেয়ার ভাব নিয়ে বুকে হাত গুজে দাঁড়ায়।
“এই মি. আপনারা মধ্যে কি ভদ্রতা নাই? একটা মেয়ে পরে গেছে। কোথায় জিজ্ঞেস করবেন সে ব্যাথা পেয়েছে কি না? তার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না? বা তার কোনো সাহায্যের দরকার কি না? তা না করে আসছেন টাকার গরম দেখাতে?”____(স্নিগ্ধা)
“দেখুন আমার হাতে সময় নেই। সুতরাং তাড়াতাড়ি বলুন কি ক্ষতি হয়েছে। কত টাকা লাগবে? নিয়ে আমার রাস্তা ক্লিয়ার করেন।” ____(আদিব)
“এক তো চোরি উপারছে ছিনা জোরি? বাহ বেটা বাহ! এক তো এসে নিজে ধাক্কা দিলেন। তারপর আবার টাকার গরম দেখাচ্ছেন। আবার ভাবও দেখাচ্ছেন? শুনুন মি. বড় লোক বাপের বিগরানো ওঁলাদ। এতো টাকা থাকলে নিজের চোখের চিকিৎসা করান। তাতে অন্ততপক্ষে গাড়ি চালানোর সময় দেখতে পারবেন সামনে মানুষ না গরু ছাগল।”_ (স্নিগ্ধা)
“আপনাকে দেখে তো আমার ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা মনে হয়। By the way side please. আর সামনে থেকে আপনার এই খাটারা টারে সরান।”____(আদিব)
“কি আপনি আমাকে কি বললেন? আর খাটারা কোনটাকে বললেন? আপনি এর দাম জানেন?”____(স্নিগ্ধা)
“কেনো শুনতে পাননি কি বললাম? আপনার কানে কি সমস্যা আছে? একটা ভালো কানের ডাক্তার দেখান।”____(আদিব)
“হে ইউ…।”_____(স্নিগ্ধা)
এর মধ্যে স্নিগ্ধার ফোন বেজে উঠল। আফিয়া ফোন করেছে।(আফিয়া স্নিগ্ধার বেষ্ট ফ্রেন্ড প্লাস তার অফিসের কলিগ।)
” তাড়া আছে বলে আজকে আপনাকে ছেড়ে দিলাম কিন্তু অন্য কোনো দিন আপনার সাথে দেখা হলে এর হিসাব আমি ঠিকই নিব। মনে রাখবেন। এই সিনিগ্ধা কারো হিসাব বাকি রাখে না।” _____(স্নিগ্ধা)
এই বলে সিনিগ্ধা চলে গেল। আর আদিব তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিয়ে বলল…
“দেখা তো অবশ্যই হবে। হতেই হবে।”____(আদিব)
বর্তমানে…
স্নিগ্ধা আর আফিয়া ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছে। স্নিগ্ধার চোখে মুখে রাগ উপচে পড়ছে। আজকে ঐ অন্ধ বড় লোক বাপের বিগরানো ওঁলাদের জন্য তাকে বসের কাছে বকা শুনতে হয়েছে। তারপর আবার একটা এক্সট্রা ডিউটি ধরিয়ে দিলো। সব ঐ বিগরানো ওঁলাদ টার জন্য।
“এত কি ভাবছিস? বাদ দে একদিন বকা খেলে কিছু হয় না। আর তাড়াতাড়ি যেতে হবে। নাহলে আবার সভা কাভার করতে পারব না তখন আবার আর এক দফা বকা শুনতে হবে।”_____(আফিয়া)
“সব হয়েছে ঐ লোকটার জন্য। পাই একবার সামনে ওর ভর্তা বানিয়ে দিব। আজকে ওর জন্য তুইও ফাঁসলি। আর এখন নাকি যেতে হবে সভা কাভার করতে। এই বক বক ফাও প্যাচাল শুনতে হবে।”__________ (স্নিগ্ধা)
“তুই জানিস কার বক্তব্য কাভার করার সুযোগ পেয়েছিস তুই? আদিব চৌধুরীর! যাকে এক পলক দেখাও অনেক মেয়ের সপ্ন।”____(আফিয়া)
লেখক : মায়েদা জাহান মৌ
ই-মেইল : mayedajahanm@gmail.com



