আমাদের সমাজে পিরিয়ড নিয়ে নানা কথা আছে, আছে নানান কুসংস্কার। আছে অপরিচ্ছন্ন জীবন যাপন। আছে লজ্জা, টিটকারী, অপমানের নানাক্ষেত্র। সঠিক শিক্ষা, উন্নত প্রচারণার অভাব পিরিয়ডের মত নারীর এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবহেলার সম্মুখীন হয়ে নারীরা জরায়ু ক্যানসারসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত।
আমাদের আসলে বিসমিল্লায় গলদ!! পরিবার থেকে পিরিয়ড শুরুর আগে প্রাথমিক কোন ধারণা দেয়া হয় না। যার ফলে হঠাৎ এমন একটা ঘটনায় মেয়েরা ভীষণ মুষড়ে পড়ে, ভয় পায়। এর পর যখন নানা রকম নিয়মকানুনে শেকল পরানো হয়, বন্দী করে দেয়া হয় তার স্বাভাবিক চালচলনে তখন সে আরো ঘাবড়ে যায়। এ সময়টাতে এমনিতেই নানা রকম শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। মেজাজ খিটমিটে, বমি ভাব, পেট ব্যথা, বিষণ্নতা, অরুচি, ঘন ঘন বাথরুম যাওয়া ইত্যাদি। তখন আসলে পরিবার, বন্ধু, ও সমাজের সাপোর্ট ভীষণ প্রয়োজন।
পরিবারের বাইরে বন্ধু ও সমাজ
আমাদের সমাজে ছেলেদের এই পিরিয়ড নিয়ে আছে দারুণ আগ্রহ এবং অবশ্যই তা পজেটিভ নয়। নানা রকম টিটকারী, অঙ্গভঙ্গি, অশালীন উক্তির মধ্য দিয়ে একটা মেয়েকে পথ চলতে হয় আর সেখানে যদি জামার পিছনে সামান্য লাল রঙের ছোঁয়াও দেখা যায় তবে তা তাদের জন্য হয়ে উঠে আরো মুখরোচক, উপভোগ্য!! অথচ পিরিয়ডের মত এমন একটি বিষয় যদি সহজ করে ছেলেদেরও বোঝানো হতো, তবে তারা সঠিক ব্যাপারটা জানতো। এটা একটা প্রাকৃতিক অনবদ্য ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যার কারণে আমরা ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে এই পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখতে পারি। তাকে যদি ধারণা দেয়া হতো কতটুকু কষ্ট, ব্যথার মধ্য দিয়ে একটা মেয়েকে এই দিনগুলো পার করতে হয় তবে সে উৎপীড়কের ভূমিকায় না থেকে শ্রদ্ধায় মাথা নত করতো। তার দেখাদেখি তার বন্ধুমহলও আরো সচেতন হতো। সমাজে নারীর সম্মান বৃদ্ধি পেত।
স্কুলগুলোতে টিচাররা দুঃখজনক ভাবে কোন ভূমিকা পালন করেন না; অথচ তারা এখানে এক চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারতেন। বরং তারা সেই দায় এড়িয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত এই সম্পর্কিত অধ্যায় বাদ দিয়ে, গঠনমূলক আলোচনা না করে বাড়িতে বসে পড়ার সবক দেন যা অত্যন্ত হতাশাজনক চিত্র। আমাদের মসজিদ, মন্দিরের মত ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ঋতুবতী নারীর প্রবেশ বা স্পর্শ নিষেধ, নোটিশ আকারে দিয়ে তা আরো একধাপ পিছিয়ে দিয়েছে। আমাদের এসব কুসংস্কার হতে বের হতে হবে। পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখার শারীরবৃত্তিক চলমান এই প্রক্রিয়াকে নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সম্মান জানাতে হবে। নারী যাতে এই সময়কালীন অধ্যায় পার হতে গিয়ে নিরাপদ থাকে তা নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত।
পিরিয়ড চলাকালীন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর অধিকতর গুরুত্ব দেয়া উচিত। সুলভ মূল্য ও সচেতনতা ও অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশে এখনও ৭০%মেয়ে স্যানেটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করে না। যারা ব্যবহার করে তারাও এর সঠিক ব্যবহার জানেন না। গ্রামাঞ্চলে বেশির ভাগ নারী পুরাতন কাপড় ব্যবহার করেন। তাতে খারাপ কিছু নেই কিন্তু ভালো ভাবে ধুয়ে প্রখর রোদে শুকিয়ে কাপড়কে জীবাণুমুক্ত করে ব্যবহার করা উচিত। অধিক সংকোচের কারণে বেশির ভাগই অন্ধকার, আলোহীন, আড়াল জায়গায় রেখে তা শুকায় যা জীবাণু মুক্ত তো হয়ই না বরং স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায়। প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস, জরায়ু ক্যানসার সহ নানাবিধ মেয়েলি সমস্যা এতে বৃদ্ধি পায়। পাতলা, নরম কাপড়ের ব্যবহারকে আধুনিকায়নের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কিছু ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, যা নিতান্তই অল্প। সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সমাজের কর্ণধার ও ধনবান ও সমাজ সেবকদের আন্তরিক পদক্ষেপ খুব দ্রুত প্রয়োজন। প্রয়োজন সহজ লভ্যতার জন্য সামাজিক ট্যাবু ভাঙা।
মেয়েরা যাতে নিজের প্রয়োজনে দ্বিধামুক্ত ভাবে নিতে পারে, তার জন্য স্কুলগুলোতে ব্যবস্থা রাখতে হবে। পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রীর মত বিনা খরচে ন্যাপকিন দেয়ার কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ন্যাপকিন বানানোর পদ্ধতি ছড়িয়ে দেয়া যেতে পারে যাতে নিজের ন্যাপকিন নিজেই তৈরি করে নিতে পারে। সবার আগে প্রয়োজন পুরাতন ধ্যান ধারণা থেকে বের হওয়া। ঋতুবতী নারী মানেই অচ্ছ্যুত–এ বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসলে বাকি কাজটুকুও এগিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি। আলোকিত নারীই সোনার বাংলাদেশ গড়তে অনেক বড় ভূমিকা নিতে পারে।
পিরিয়ড নিয়ে যত কথা জানা প্রয়োজন
পিরিয়ড/ মাসিক/ মিনস/ মেন্সট্রুয়াল সাইকেল সৃষ্টিকর্তা কতৃক নির্ধারিত, নারী চরিত্রের প্রকৃতিপ্রদত্ত একটি নিয়ম। এই স্বাভাবিক বিষয়টিকে সমাজে ট্যাবু করে রাখা হয় যার ফলে তৈরি হয় নানান ভুল ধারণা। এর জন্য অন্যতম কারণ ‘অজ্ঞতা’। এই অজ্ঞতার কারণে একজন নারীকে অনেক লজ্জাজনক এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। খুব দুঃখের বিষয় হলেও সত্যি যে, অধিকাংশ মেয়েরাই এর খুঁটিনাটি জানেন না। এ সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা-
পিরিয়ড কী?
প্রতি চন্দ্রমাস পরপর হরমোনের প্রভাবে পরিণত মেয়েদের জরায়ু চক্রাকারে যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায় এবং রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত অংশ যোনিপথে বের হয়ে আসে তাকেই ঋতুচক্র বলে।
একজন নারীর পিরিয়ড তাকে প্রতি মাসে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত করে। আরেকটু সহজ ভাষায় বললে, আমরা শুধু জানি বাচ্চা হওয়ার জন্য পিরিয়ড হয়। তো বাচ্চা হওয়ার জন্য পিরিয়ড কেন হওয়া লাগে? কারণ, প্রতিমাসে মেয়েদের গর্ভাশয় তার বাইরের আবরণটাকে শক্ত করে যেন গর্ভবতী হওয়ার পর বাচ্চাকে আশ্রয় দিতে পারে। কিন্তু পরে যখন ভ্রূণ নিষিক্ত হয় না তখন সে তার সেই শক্ত আবরণটাকে ছিঁড়ে ফেলে আবার পরের মাসের জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। যে কারণে মেয়েদের শরীরের ভেতরের একটা অঙ্গ ছিঁড়ে সেটা সেই রক্তের সাথে বের হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়া গড়ে ২৮ দিনের মধ্যে হয়।
পিরিয়ড প্রক্রিয়া
মেন্সট্রুয়াল ফেজ: এই যোনি পথে রক্ত বের হয়। ৪-৭ দিন স্থায়ী এই রক্তপাতে ভেঙ্গে যাওয়া রক্তকনিকা ছাড়াও এর সাথে শ্বেত কনিকা, জরায়ুমুখের মিউকাস, জরায়ুর নিঃসৃত আবরণী, ব্যাকটেরিয়া, প্লাজমিন, প্রস্টাগ্লানডিন এবং অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে থাকে। ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোনের যৌথ ক্রিয়ায় এই পর্বটি ঘটে।
প্রলিফারেটিভ ফেজ: ৮-১০ দিন স্থায়ী হতে পারে। শুধু ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এটি হয়। এই সময় জরায়ু নিষিক্ত ডিম্বাণুকে গ্রহণ করার জন্য প্রস্ততি নেয়।
সেক্রেটরি ফেজ: সবচেয়ে দীর্ঘ, প্রায় ১০-১৪ দিন। একে প্রজেস্টেরন বা লুটিয়াল ফেজ-ও বলা হয়। এটিও ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন উভয় হরমোনের যৌথ কারণে হয়। এই সময় নিষিক্ত ডিম্বাণুর বৃদ্ধির জন্য জরায়ু সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিয়ে থাকে।
ডিম্বাশয়ের কোনো ডিম্বাণু শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত না হলে জরায়ু আবার মেন্সট্রুয়াল ফেজ-এ চলে যায়। এভাবেই পূর্ণ বয়স্ক মেয়েদের ঋতুচক্র চলতে থাকে।
পিরিয়ড–এ রক্তপাতের পরিমাণ
প্রতি পিরিয়ডে এক কাপেরও কম রক্ত নিঃসৃত হয়। সাধারণত প্রথম দুই দিন বেশি রক্ত নিঃসৃত হয়। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি-এর স্কুল অব মেডিসিনের মতে-প্রতি মাসে কয়েক চামচ থেকে বড়জোর এক কাপ পরিমাণ রক্ত বের হয় শরীর থেকে। যদি ব্যবহার শুরু করার ২ ঘণ্টার কম সময়ে প্যাড সম্পূর্ণ ভিজে যায় তাহলে বুঝতে হবে এটা স্বাভাবিক নয়। জরায়ু মুখের ক্যান্সার, টিউমার, ওভারিয়ান সিস্ট ইত্যাদি কারণে পিরিয়ড-এ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে। তাই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে লজ্জা না পেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
স্যানিটারি প্যাড বা ন্যাপকিন ব্যবহারের নিয়ম: বাজারে এখন বিভিন্ন ব্র্যান্ড-এর, বিভিন্ন ধরনের স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড পাওয়া যায়। যে ধরনেরই হোক না কেন তা কোনভাবেই দীর্ঘক্ষণ পরা উচিত নয়। পিরিয়ড-এর প্রথম দুই-তিন দিন একটু বেশী রক্তক্ষরণ হয়, তাই দুই ঘন্টা পরপর প্যাড পরীক্ষা করে দেখা উচিত। যদি প্যাড শুকনো না থাকে অর্থাৎ উপরের অংশে রক্ত ভেসে আসতে দেখা যায় তবে সাথে সাথে তা চেঞ্জ করা উচিত এবং কোনভাবেই চার ঘণ্টার বেশি একটি প্যাড পরা উচিত নয়।
কিন্তু চতুর্থ বা পঞ্চম দিন থেকে রক্তস্রাবের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে। এসময় অনেকেই আছেন যারা একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কম ব্লিডিং হয়েছে ভেবে দীর্ঘসময় ধরে ব্যবহার করেন। এতে করে সেই রক্ত দ্রুত শুকিয়ে সেখানে জীবানুর আক্রমণ হয় যা যোনিপথের সংস্পর্শে এসে চুলকানি, ফোঁড়া, যৌনাঙ্গের নানান রকম অসুখ ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন ইত্যাদি সৃষ্টি করে। লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে মেয়েরা চব্বিশ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্যানিটারি ন্যাপকিন পরে থাকে। কিন্তু এ ধরনের প্যাড দীর্ঘসময় শুকনো রাখার জন্য ‘সেলুলোজ জেল’ নামক উপাদান ব্যবহার করা হয় যা জরায়ুমুখের ক্যান্সার-এর জন্য দায়ী। তাই এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সচেতন হতে হবে।
পিরিয়ড কালীন পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা: পিরিয়ড-এর সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরী। প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলের সময় নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। স্কুল, কলেজ বা অফিসে সম্ভব না হলেও বাড়িতে থাকাকালীন সময়ে হালকা গরম পানির সাথে জীবাণুনাশক সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে নিজেকে পরিষ্কার করুন। স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবর্তনের সময় পরনের প্যান্টি-ও বদলে ফেলবেন। এটা জরুরী। নাহলে এত কষ্ট করে পরিষ্কার হবার কোন মানে নেই। ব্যবহৃত প্যান্টি ধোয়ার সময় স্যাভলন বা জীবাণুনাশক লিকুইড দিয়ে ধুয়ে নেয়া ভালো।
সামাজিক কিছু ভুল ধারণা: শারিরীক অস্বস্তির পাশাপাশি নানান রকম কুসংস্কারের কারনে প্রাচীনকাল থেকেই পিরিয়ড মেয়েদের জন্য গোপন ও লজ্জাজনক। মাসিক হলে ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না, শরীরে পানি লাগানো যাবে না, চুল ধোয়া যাবে না, বিছানায় শোয়া যাবে না… এছাড়াও আরো কত কী!! কিন্তু এ সবই ভুল ধারণা। এই সময় ঘরের কোনায় না থেকে বাইরের আলো বাতাসের সংস্পর্শে থাকা উচিত। নিয়মিত গোসল করা ও পরিষ্কার কাপড় পরা উচিত। এছাড়াও পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মেয়েরা রান্নাঘরে ঢুকতে পারবে না, আচারে হাত দিতে পারবে না এরকম কিছু ভ্রান্ত ধারণাও প্রচলিত আছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পিরিয়ড নিয়ে কিছু টিপস:
১. থাকুন হাসিখুশি। পছন্দের কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, চাপমুক্ত থাকুন।
২. পিরিয়ড-এর সময় চুপচাপ শুয়ে বসে না থেকে হালকা কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। রক্ত প্রবাহ নিয়মিত করতে ও ব্যথা কমাতে এটি খুবি উপকারী।
৩. এ সময় তলপেটে হালকা ব্যথা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে শুরুতেই পেইনকিলার খাওয়া উচিত নয়। হট ওয়াটার ব্যাগ-এ গরম পানি নিয়ে তলপেটে হালকা সেঁক দিলে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।
৪. ভারী কাজ বা ব্যায়াম থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের জুস ও শরবত জাতীয় খাবার-এ সময় শরীরকে ফ্রেশ রাখতে সাহায্য করে।
৬. শরীরে আয়রন-এর ঘাটতি পূরণ করতে এ সময় খাদ্যতালিকায় বাড়তি সবুজ শাকসবজি, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি রাখতে হবে।
৭. বিভিন্ন রকম ফলমূল যেমন: কলা, পেয়ারা, আমড়া, লেবু, জলপাই, পেপে, আনারস ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সরবরাহ করে, যা আয়রন-এর শোষণ ও কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
প্রতি মাসে নিয়ম করে এই নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন প্রতিটি মেয়ের জীবনেই পার করতে হয়। প্রকৃতির নিয়ম মেনেই এই চক্র চলে। এটি নারীর শরীরবৃত্তীয় অধিকার, সুস্থতার একটি অংশ। তাই পিরিয়ড নিয়ে এখন আর কোন অজ্ঞতা, লজ্জা বা দ্বিধা মনে পুষে রাখা চলবে না। বয়ঃসন্ধির আগেই পরিবারের মেয়ে শিশুটির পাশাপাশি ছেলে শিশুটিকেও পিরিয়ড সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। এভাবেই আস্তে আস্তে সমাজ থেকে পিরিয়ড নিয়ে সকল ভুল ধারণা ও ট্যাবু দূর করা সম্ভব।



